পৃষ্ঠাসমূহ

কবিতা

কামরুল হাসান বাদলের কবিতা

======================================================================

সুনসান দুপুরে
স্নানঘরে
তোমার চুল হতে ঝরে পড়ে
নায়াগ্রা প্রপাত
সিজদা সমান দূরে
আমি ভিজতে থাকি
একা......
======================================================================

বাবুনগরীর বাবু
এখন কেন কাবু
বাঁচলে পরে ১৩ দফার
হিসেব করো পিছে,
তোমার দেখি জীবনখানা
ষোল আনাই মিছে...........
(29.05.2013)
======================================================================

'তস্কর'

ক্ষমা চাইলেই ক্ষমা করা যায়
তবে যে আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ
আমার ভগ্নি অথবা কন্যা
আমার তরুণ বন্ধু
যারা অনেকে আমার সংন্তানের মতো
তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ অপমান
মুছে যাবে, ঘুচে যাবে?
তুমিতো মুখোশ খুলে দাঁড়িয়েছো
এখন তোমায় চিনতে পারছি বেশ
এই তুমি কিংবা তোমাদেরই কেউ
নারায়ে তাকবির বলে কোপাচ্ছো,
রক্তাক্ত করছো মাদ্রাসার কক্ষ
অপবিত্র করছো মসজিদ, মাইকে
দিচ্ছো মিথ্যা আহবান
তুমি কিংবা তোমরাইতো
প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে
তস্করবৃত্তি করেছো দীর্ঘকাল ।

আমার ভগ্নিকে কালিমা দেবার আগে
তুমি কি তোমার কন্যার মুখের দিকে
তাকিয়েছিলে তস্কর?




' কাদের কাদের'


কাদের কাদের
বলতে পারিস কাদের
তুই আসলে কাদের ?
একাত্তরে যোদ্ধা ছিলি
তাইতো ওমন খেতাব পেলি
এখন দেখি তুইতো তাহার যোগ্য না
ডিগবাজিতো ভালই দিলি
বিনিময়ে কত পেলি
তোর কথাতো একটু উপভোগ্য না
ঠিক বলিনি কাদের ?
তুই আসলে তাদের ।


'শব্দেনৈশব্দে'

তুমি আমাকে শব্দের ভেতর সীমাবদ্ধ করেছ ঈশ্বর                           
কি করে আমি নৈশব্দকে বোঝাই। আমার জন্মের আগে
নির্ধারিত জঠরে আমি ভ্রুণ ছিলাম। সে অন্ধকার থেকে
আলোতে অথবা আলো থেকে অন্ধকারে আমার প্রবেশ
অথবা প্রস্থান। আমি কিভাবে সেই জন্ম যন্ত্রণার কথা বোঝাই।
তুমি আমাকে অসহ্য সব শব্দের ভেতর নিক্ষেপ করেছআমি
কি করে শব্দ সমূহের নৈশব্দকে বোঝাই। আমার চোখ যখন
গলে গলে যায়। আমার সবক’টি আঙুল যখন একে একে
খসে যায়। আমার উদ্যত শব্দাবলী যখন কোলাহলে হারিয়ে
যায় আর আমার জন্যে নির্ধারিত হয় মৌনতাসে বোধ
ও শব্দবিহীন আমাকেআমি কি করে বোঝাই॥

(প্রকাশিতঃ দৈনিক আজাদী, ১৭ আগষ্ট ২০১২, শুক্রবার)



চে' কে নিবেদিত কবিতা 
(রচনাকালঃ১৯৯২)

মেসেজ
এ শহরের প্রতিটি দেয়ালকে সাক্ষী রেখে বলছি
যে দেয়ালে লেখা হয় তোমাদের অধিকার  ও
দাবি আদায়ের কথা।
প্রতিটি ডাস্টবিনকে সাক্ষী রেখে বলছি
যেখানে থেকে খুঁটে খুঁটে  তোমাদের সন্তানেরা
তুলে নেয় কষ্টের আনাজ।
আমি এ শহরের প্রতিটি রাজপথকে
সাক্ষী রেখে বলছি                                                        
যেখানে অচৈতন্যে নিদ্রাতুর থাকে তোমার ভাইয়েরা
এবং যেখানে প্রায়শঃ অন্ধকারে দেহ মিলনে রত হয়
পথনারীরা।
আমি এ শহরের প্রতিটি কলতলার  জলক্রীড়াকে
সাক্ষী রেখে বলছি-
আমি সকল শিশুর নামে শপথ করে বলছি
একদিন তোমরা সমবেত হবে
দৃঢ় হবে এবং পরস্পর ঋজু হবে
তোমাদের দিক হতে হয়ত মুখ ফেরাবে কেউ কেউ।
বলশেভিকের পতন অথবা বসনিয়ার জাতিগত দাঙ্গার কথা
বলবে কেউ কেউ
কিন্তু তোমরা যারা জানো
এই পৃথিবী হবে মানুষের জন্যে,
শুধু মানুষের জন্যে-
তোমাদের বলছি-
তারা তোমাদের বিশ্বাসকে কখনোই টলাতে পারবে না
বরঞ্চ বলে বলে তারা ক্লান্ত হবে।
আর তোমরা একত্রিত হবে বিপ্লবের জন্যে
বিপ্লবীদের পরাজয় নেই
আমি বিপ্লবের নামে শপথ করে বলছি
তাদের বিপরীতে তোমরা দাঁড়াবে অনড়
তোমরাই বিপ্লবকে করবে অবিনশ্বর


সুসংবাদ
সাম্যবাদের বিপর্যয়ে যারা একদিন
দু'পেগ বেশি টেনেছিল হুইস্কি
তাদের জন্যে আমি দুঃসংবাদ দিচ্ছি
' সর্বহারা মানুষের জয়
তার জন্যে কোন ওয়ালেসা নয়
সমাজতন্ত্রেই মুক্তি'
হার্ডরক আর মেডোনার সেক্সে
মাতোয়ারা এক
রাশিয়ান বেশ্যার উক্তি।


লুম্পেন
দেশটা তোমার বাপের তালুকদারি নয় যে,
আমায় অরস্যালাইন খাইয়ে তুমি খাবে
শ্যাম্পেন,
আমার পীড়া সে তো ক্ষুধার জন্যে
আমার ক্ষুধা সে তো তোমার জন্যে
হারামজাদা লুম্পেন।

*********************************************
*********************************************

নিখোঁজ
লিখি কারণ-বর্ণমালাগুলো সাজাতে হবে
ডাক দিয়ে পথ তৈরি করে তার দুই পাশে
কৃষ্ণচূড়া ফোটাতে হবে। কৃষ্ণচূড়ার রঙ মনে
করিয়ে দেবে রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের কথাপথের
দু’পাশে ফুল ছড়াতে ছড়াতে যারা এসেছিল
তাঁদের খোঁজ মিলছে না কোথাও।

পতন
সিঁড়িগুলো এত নিচে নেমে গেছে
আমি নামতে নামতে ক্লান্ত। নামার
পথে দু’একজন ছাড়া আর কারুর
দেখা পেলাম না যারা পতনে অনিচ্ছুক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

পোস্টসমূহ