পৃষ্ঠাসমূহ

বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৩

'শুধু কি রাজনীতিবিদরাই দুর্নীতিবাজ?'

২৯ আগষ্ট বৃহস্পতিবার ২০১৩ খ্রি: ১৪ ভাদ্র ১৪২০ সাল ২১ শাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী

- কামরুল হাসান বাদল
রাজনীতি যে আমার জন্যে নয় সেটি আমি ছাত্রজীবনেই বুঝে ফেলেছিলাম। রাজনীতি করতে হলে আর যাই হোক একশ ভাগ যে আনুগত্যের প্রয়োজন তা যেদিন বুঝতে পেরেছি সেদিন আমি রাজনীতি থেকে ১০০ হাত দূরে। আমার ভেতর এ নিয়ে এমন ভীতি জন্মেছে যে, পারতপক্ষে আমি রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বেশি মেলামেশা করি না। এমনকি যে রাজনৈতিক দলটির প্রতি আমার এক ধরনের পক্ষপাতিত্ব আছে সে দলেরও না। আমি ভয় পাই বেশি মিশতে গিয়ে শেষে না আবার সে দলটির প্রতিই বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠি।

এদের চিৎকার চেঁচামেচি, অগোছালো জীবনযাপন ও অতিমাত্রার কর্মী পরিবেষ্টিত থাকা সর্বক্ষণ আমার মেজাজ মর্জির সাথে যায় না। এত কথা বলা এবং অনেক সময় অসত্য বলা আমার পছন্দ নয়। এটি আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত। মনে হয় অধিকাংশের নয়। সবাই আমার মতো হলে প্রতিটি রাজনৈতিক দলে লক্ষ লক্ষ কর্মী সমর্থক গিজ গিজ করে কীভাবে।

তবে আমি রাজনীতি সচেতন। রাজনীতির খবর রাখি বটে। আমার লেখা এতদিন ধরে যাঁরা পড়ে এসেছেন তাঁরাও খেয়াল করে থাকবেন আমার অধিকাংশ লেখাতেই রাজনীতি উঠে এসেছে যে কোনোভাবে। কারণ বাস্তবতা হচ্ছে রাজনীতি ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। আমরা কেউই রাজনীতির বাইরে নই। রাজনীতি ব্যতিরেকে কোনো অর্জন বা পরিবর্তনও সম্ভব নয়। বর্তমানে আমরা শুধু স্থানীয় বা দেশীয় রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নই। আমরা বিশ্ব রাজনীতিরও অংশ হয়ে গেছি।

তবে রাজনীতিবিদদের কিছু কিছু গুণ আছে যা আমাকে অবাক করে। এঁদের কোনো ব্যক্তিগত জীবন নেই। পরিবার পরিজনের চেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদেরই সময় দেয় বেশি। সর্বক্ষণ মানুষ পরিবেষ্টিত থাকা এবং শত ব্যস্ততার মধ্যেও অধিকাংশ সময় মেজাজ ঠিক রাখা আর মোবাইলের মতো বিরক্তিকর যন্ত্রটির আহবানে সাড়া দেওয়া। এ কাজগুলো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। মোবাইলে পরপর কয়েকটি কল এলে আমার তো মোবাইলটিই ফেলে দিতে ইচ্ছে করে।

বলেছিলাম রাজনীতি ছাড়া কিছু অর্জন সম্ভব নয়। খুব সংক্ষিপ্তভাবে বললেও বলতে হবে ’৪৭-এর দেশভাগ, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সকল সুফল তো রাজনীতিরই অবদান। আওয়ামী লীগের জন্ম না হলে, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাঙালি তার হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাধীনতা অর্জন করতো কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে যায়। হয়ত বাঙালি একদিন স্বাধীন হতোই তবে তা ১৯৭১’র নয়, কোনো এক একাত্তরে হয়ত। দেশের আজ যে অগ্রগতি তার পেছনে রাজনীতিবিদদের অবদানও কম নয়। আজ যে একটি ব্যাংক নিয়ে অনেক কথা বলা হয় তার অনুমোদনও একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

কাজেই বর্তমান যুগে রাজনীতি বিবর্জিত কিছু নেই। ধর্মের নামে, জিহাদের নামে এত যে হত্যা,সন্ত্রাস, ধ্বংস তার মূলেও রাজনীতি। গোপনে জঙ্গিদের অস্ত্র দিয়ে, অর্থ দিয়ে প্রকাশ্যে জঙ্গি দমনের নামে কোনো রাষ্ট্রে ঢুকে পড়া তা-ও রাজনীতি। মধ্যপ্রাচ্যে অধিকাংশ বড় বড় অফিসে চাকরি করে ভারতীয়রা আর বাংলাদেশের মুসলিমরা মিসকিন হিসেবে সুইপারের চাকরি করে তা-ও রাজনীতি।

তবে বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনীতি নিয়ে খুব বেশি বাড়াবাড়ি হচ্ছে। দেশ বা পুরো জাতিটাই বর্তমানে দু’শিবিরে বিভক্ত। এর জন্যে সবাই রাজনীতিকেই দায়ী করেন। রাজনীতিবিদদের তুলোধুনো করেন।

রাজনীতিবিদদের প্রথম দুর্নাম তারা দুর্নীতিবাজ। এ বিষয়ে সম্ভবত বাংলাদেশের কোনো মানুষের দ্বিমত নেই। আসলে বাস্তবতাটা কী তা নিয়ে কি একটু ভাবা যেতে পারে? ধরুন আপনার শহরের অভিজাত এলাকার আলিশান বাড়িগুলোর একটু খবরাখবর নিন। সুপার মার্কেট, মার্কেটের দোকান,হোটেল রেস্তোরাঁ। বড় বড় স্থাপনার বিষয়ে একটু খবর নিন। তারপর দেখুন এসবের মধ্যে কয়টির মালিক রাজনীতিবিদরা আর কয়টির মালিক পুলিশ, কাস্টম, আয়কর, বিআরটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গ্যাস, বিদ্যুৎ অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠানে দু’নম্বরি করার সুযোগ আছে তার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি করে ঠিক তবে তার বিশাল একটি অংশ খরচ হয় দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকদের জন্যে। আর দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত প্রজাতন্ত্রের বেশিরভাগ কর্মকর্তা কর্মচারীদের টাকায় আয়েশি জীবন চালায় তাদের সন্তান পরিবার-পরিজনরাই শুধু। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের রাজনীতিবিদদের খরচ একটু বেশিই। কারণে অকারণে বছরে বেশ কটি বাড়তি মেজবানও খাওয়াতে হয় তাদের। আসলে আমাদের রাজনীতিবিদরা একটু মাথা মোটাওয়ালা। এরা এক টাকা খেলে এদের মন্ত্রণালয়ের সাহেবরা বাড়তি ৯ টাকা খেয়ে বসে থাকে মন্ত্রী, এমপির দোহাই দিয়ে। থানার পুলিশ বলে অমুককে ধরা যাবে না উপরের নির্দেশ আছে। অমুককে ধরতে বাধ্য হয়েছি ওপরের প্রেসার আছে। বেকুব টাইপের রাজনীতিবিদ দুর্নীতি করে একটা আর বাকি ৯টি দুর্নীতি হয় তার নাম ভাঙিয়ে। রাজনীতিবিদ যেহেতু একবার দুর্নীতির ফাঁদে পা দিয়েছে সেহেতু বাধা দেওয়ার নৈতিক শক্তিটিও তার তখন থাকে না। আমি বলি কি ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় বড় নগরীর অভিজাত বাড়ি, মার্কেট আর বিশাল বিশাল শো রুম ও হোটেল রেস্তোরাঁর মালিক কারা তার একটি পরিসংখ্যান হওয়া উচিত। এসএসসি, ইন্টার বা সামান্য ডিগ্রি পাস রাজনীতিক যখন মন্ত্রী হন তখন তিনি কাবু হয়ে থাকেন স্যুটেও বুটেও বিসিএস ক্যাডারের কাছে। এরা প্রকল্প সৃষ্টি করেন। এরাই মন্ত্রীকে দিয়ে তা পাস করিয়ে নেন। প্রকৃত ক্ষমতা এরাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। দীর্ঘদিন এই প্রক্রিয়া চলতে চলতে এখন রাজনীতি আর রাজনীতিকদের হাতে নেই।

তা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে অন্য কোনো জায়গা থেকে। জাতীয় সংসদ বা রাজনীতি এখন কালো টাকার মালিক, দুর্বৃত্ত, চোরাচালানি, মাদক পাচারকারী ও অবসরপ্রাপ্তদের দখলে। এরা প্রকৃত রাজনীতিক নন। এরা রাজনীতিতে আশ্রয় নেওয়া দুর্বৃত্ত। এ কারণেই রাজনীতিবিদরা আজ জনগণের সমালোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছেন। এখনও আমাদের রাজনীতিতে অনেক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব আছেন যাঁরা প্রকৃত জনগণের বন্ধু তবে তারা সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য। সমাজে কালো টাকার মালিকরা নিজের জানমাল বাঁচাতেই রাজনীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এবং এই প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমার তো মনে হয় এই প্রবণতা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আর রাজনীতিকরা থাকবেন না। গডফাদাররাই হয়ে উঠবেন রাজনীতির মূল নিয়ন্ত্রক। বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে খুঁজলে বেশ কিছু সৎ মেধাবী, শিক্ষিত ও নিবেদিত নেতা পাওয়া যাবে। কিন্তু আগামী কয়েক বছর পরে এই পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। ’৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরে এরশাদের পতন হলে ’৯০-এর সেসব ছাত্রনেতাদের যেভাবে অর্থ দিয়ে দুর্নীতির প্রথম পাঠ শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল তা আর বন্ধ হয় নি। বর্তমানের যুব ও ছাত্রনেতারা যেদিন মূলধারার রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে তখনকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা ভাবতে গেলে আমার হাত-পা শীতল হয়ে পড়ে।

আমি আমার লেখায় রাজনীতিবিদ বলতে প্রকৃত রাজনীতিবিদদের বুঝিয়েছি। কোনো সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজ, গডফাদার ফার্মের বা হাইব্রিড রাজনীতিবিদদের কথা বোঝাইনি। কারণ আমি বিশ্বাস করি ব্যক্তি সৎ না হলে একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের কাছে সততা আশা করা যায় না। আমাদের সমাজ বর্তমানে দুর্নীতি ও অসততায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত। আমরা অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে অসৎ। কেউ কেউ সুযোগের অভাবে সৎ। সুযোগ ও প্রকৃত মূল্যের জন্যে আমরা অনেকেই (OFFER)অফার হয়ে বসে আছি।

ডাকাতের সর্দার ডাকাতই হবে। আউলিয়ার সর্দার আউলিয়া। প্রায় পুরো জাতিই যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত তার নেতারা কীভাবে সৎ হবে। আগে নিজে সৎ হলে নেতা নির্বাচনেও সৎ মানুষের খোঁজ করব আমরা। রাজনীতির ঘাড়ে বন্দুক রেখে দেশকে ছোবড়া বানাচ্ছে সরকারি- আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রাজনীতিকের ছদ্মবেশে মাস্তান, সন্ত্রাসী ও কালো টাকার মালিকেরা জনদরদি হয়ে পোস্টার লাগায়।

এদের ঠেকাতে প্রকৃত ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদের (যদি অবশিষ্ট থাকে) বোধোদয় কবে হবে জানি না। জানি না জনগণ তাদের নেতা হিসেবে ভালো মানুষদের কখন বেছে নেবে। মানুষ জানে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া ব্যক্তিদের কাহিনী। কিন্তু তাতে ওই ব্যক্তির কোনো অসুবিধা নেই। তার পেছনে ছোটার লোকের অভাব নেই।

দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের কথা ভেবে আগে আমাদের রাজনীতিকেই পরিশুদ্ধ করে তুলতে হবে। প্রকৃত, মেধাবী ও সৎ রাজনীতিকের হাতে (সে যে দলেরই হোক) যেন রাজনীতি থাকে- সে চেষ্টাই করতে হবে। নেতা ও জনতা ঠিক থাকলে রাজনীতি সঠিক পথে চলতে বাধ্য।


লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক email: qbadal@yahoo.com Google+

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৩

'অতি রাজনীতি প্রবণতা ও ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধ'

২২ আগষ্ট বৃহস্পতিবার ২০১৩ খ্রি: ৭ ভাদ্র ১৪২০ সাল ১৪ শাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী

- কামরুল হাসান বাদল
বেশ কয়েক বছর ধরে রাজনীতিটাই আমাদের সকল আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠেছে। শুধু আলোচনার বিষয় বললে ভুল হবে, বিনোদনেরও বুঝি বিষয় হয়ে উঠেছে। তা না হলে টেলিভিশনগুলোয় রাতদিন রাজনীতি নিয়ে এত এত অনুষ্ঠান, টকশো প্রচারিত হচ্ছে কীভাবে। এ অনুষ্ঠানগুলো যদি জনপ্রিয় না হয় তাহলে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে খ্যাতনামা কোম্পানিগুলো তা স্পন্সর করছে কীভাবে। নিউজ চ্যানেল বলুন আর বিনোদন বা স্পোর্টস চ্যানেল বলুন সন্ধ্যা থেকেই মধ্যরাত অবধি চলতে থাকে তর্কাতর্কির অনুষ্ঠান তথা টক শো যার বিষয়বস্তু ঘুরে ফিরে রাজনীতি।

সেই কবে থেকে আওয়ামী লীগ- বিএনপি, তত্ত্বাবধায়ক নির্দলীয় সরকার করতে করতেই আমাদের সময় কেটে গেল। দেখে শুনে মনে হয় বাংলাদেশে দ্বিতীয় কোনো সমস্যা নেই। একমাত্র সমস্যা তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর তার অধীনে তথাকথিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। সেই ’৯১ সাল থেকে অন্তর্বর্তী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চারটি নির্বাচন তো দেখলাম। কোনোটাইতো বিতর্কহীন হয়নি। প্রতিবারই পরাজিত দল ফলাফল মেনে নেয় নি এবং কোনো সংসদই পূর্ণ মাত্রায় কার্যকরও হয়নি। প্রতিটি সংসদেই বিরোধী দল কোনো কোনো অজুহাতে অনুপস্থিত থেকেছে। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচি রাজপথেই পালিত হয়েছে। দিনের পর দিন হরতাল ধর্মঘটে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্তমানেও একই পরিস্থিতি চলছে। জনগণের কী লাভ হচ্ছে তা পরিষ্কার না হলেও প্রতি পাঁচ বছরে দেশে কয়েক হাজার করে নব্য কোটিপতি তৈরি হচ্ছে। যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সে দলের চাটুকাররাই (নিবেদিত কর্মীরা নয়) ফুলে ফেঁপে কলাগাছ হয়ে উঠছে। তারপরেও দেশের মানুষের রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ দেখে আমি বিস্মিত না হয়ে পারি না।

পানের দোকানদার থেকে রিকশাওয়ালা একটু সুযোগ পেলেই আপনাকে জিজ্ঞেস করে বসবে, ‘দেশের অবস্থা কী বুঝতেছেন বাই’। আপনি ইচ্ছুক হোন বা না হোন এরপরে সে এমন একটি মন্তব্য করে বসবে তখন আর আপনার জড়িত না হয়ে উপায় থাকে না। এই পরিস্থিতি সবখানেই। বিয়ে বাড়ি থেকে মেজবান, এমন কি জানাযার নামাজ পড়তে গিয়েও দেখা যায় অনেকের আলোচনার বিষয় মৃত ব্যক্তি বা তার পরিবার পরিজন নয়, সেখানেও হাসিনা-খালেদা, বিএনপি-আওয়ামী লীগ আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার। যে কোনো লোক দু’একটি কুশল বিনিময়ের পরই অবধারিতভাবে জানতে চাইবে, ‘দেশের পরিস্থিতি কী বুঝছেন।’

এভাবে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে থাকতে নিজেদের পরিবার, সমাজ আর শত বছরের মূল্যবোধ যে হারিয়ে যাচ্ছে। ভেঙে যাচ্ছে তার দিকে আমাদের কারোর খেয়াল নেই। ঘুণে খাওয়া আসবাবের মতো কাঠামোটি দেখা যাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু কাছে গিয়ে একটু নাড়া দিলেই সবকিছু ভেঙে পড়বে।

রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত এই সমাজটিকে যে কতটা ভঙ্গুর, এর ভেতরটা যে শূন্য হয়ে গেছে তা এক ঝটকায় উঠে এলো ঐশী নামের মেয়েটির দ্বারা তার বাবা-মা’র খুন হওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনা ও মোটিভ আমাদের বলে দিচ্ছে এই সমাজটা কতটা পঙ্কিল আবর্তে পড়েছে।

রাতারাতি বিত্তবান হয়ে ওঠা এবং তাদের অপরিমিত জীবনযাপন সমাজে কী যে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি করছে এই ঘটনাটি তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আসলে এখানে ঐশীকে ঘাতক হয়ে ওঠার প্ররোচনা দিয়েছে নীতিহীন, আদর্শহীন, মূল্যবোধহীন একটি পারিবারিক পরিবেশ- পক্ষান্তরে বহমান সমাজ।

বছর দুয়েক আগে, ঈদের তোহফা হিসেবে পরিবারের মেঝো ও সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ সন্তানকে প্রায় তিন কোটি টাকা দামের গাড়ি কিনে দিলেন চট্টগ্রামের এক নব্য শিল্পপতি। ঈদের দিন বিকেলে আলিশান সে গাড়ি নিয়ে বেড়াতে বের হওয়ার মুহূর্তে গাড়ির গতি সামলাতে না পেরে সম্মুখের কন্টেইনার মুভারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া। ফলাফল দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে কোনো প্রকারে প্রাণে বেঁচে আসা ছেলেকে নিয়ে হাসপাতাল ক্লিনিক টানা হেঁচড়া। সে বছর ঈদের আনন্দ মাটি হয়েছিল সে শিল্পপতি পরিবারের। যদিও বর্তমানে এই শিল্পপতির দেনা আর সম্পদ নিয়ে মহা ফাঁপড়ে আছে কয়েকটি ব্যাংক।

এই হচ্ছে সমাজের বিত্তশালী পরিবারগুলোর চিত্র। এসব পরিবারে বাবা-মা সন্তানদের সাথে আদর্শ বা মানবতাবোধের কথা বলবে কি। তার নিজেরই তো আদর্শ মূল্যবোধ নেই। এই বিষয়গুলো কাকে বলে তা তো তারা জানেই না। এরা ভোগ করতে জানে; সন্তানদেরও ভোগী করে তোলে। যার বৈধ উপার্জনের সাথে জীবন যাপনের মিল নেই। সে ব্যক্তি কী করে তার সন্তানদের মানুষ হওয়ার তাগিদ দিতে পারেন। আর তা তাদের সন্তানরা শুনবেই বা কেনো। তাই তারাও এক প্রকার ব্ল্যাকমেইল করে মা-বাবাকে।

ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় বড় নগরে এতো এতো দামি হোটেলগুলোতে কারা যায়? সড়কে এত এত দামি গাড়ি তা কারা চালায়? এই অর্থের উৎস কী? তারা কত টাকা আয়কর দেন? যার বেতন ১৮ হাজার টাকা কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হয় কী করে তার? অভিজাত এলাকার দামি দামি আলিশান বাড়িগুলোর মালিক কারা? এত টাকার উৎস কোথায়? বাংলাদেশের বাস্তবতায় কত বছর চাকরি করলে খেয়ে দেয়ে কিছু পয়সা জমানো সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব। যদি ব্যাংকের টাকা মারা যায়। যদি ভুয়া এলসি খুলে টাকা লুটপাট করা যায়। যদি এক পণ্যের আমদানি দেখিয়ে অন্য পণ্য আনা যায়। যদি জবর দখল করা যায়। যদি চাঁদাবাজি মাস্তানি করা যায়। যদি নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করা যায়। যদি পুলিশ, কাস্টম, আয়কর বা যে বিভাগে ঘুষ খাওয়ার সুবিধা আছে সেখানে চাকরি করা যায়। যদি ভেজাল মিশিয়ে রাতারাতি লাখ থেকে কোটিপতি হওয়া যায়। যদি মাদকের ব্যবসা করা যায়।

আজ সারাদেশে তরুণ সমাজে মাদকের অবাধ ব্যবহার। মাঝে মধ্যে দু’একটি লোক দেখানো ধরা পড়ার দৃশ্য দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবে এ ধরনের কয়েক হাজার চালান পার হওয়ার পর একটি ধরিয়ে দেওয়া হয়। না হলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাজ কী তবে! প্রশাসনের ভূমিকাই বা কী? কারা মাদক ব্যবসা করে, কারা এর নিয়ন্ত্রক তা কি পুলিশ বিভাগ বা নারকোটিকস বিভাগ জানে না? এসব না চললে, সমাজে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অনিয়ম অন্যায় বন্ধ হলে একজন সামান্য পুলিশ অফিসার কোটি কোটি টাকার মালিক হবেন কী ভাবে?

ঐশীর বাবা মা হত্যার তদন্তে খুব গভীরে যাওয়া হবে না। কারণ তাতে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে। অনেক অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যা ভদ্রলোকদের বিব্রত করবে। দু’দিন পরে আরেকটি ঘটনা ঘটবে তারপর আড়ালে হারিয়ে যাবে ঐশীদের ঐশী হয়ে ওঠার কাহিনী। এই কাহিনীকে আর প্রকাশ ও প্রচার করতে দেওয়া হবে না। আবার জনগণ ফিরে যাবে নিত্যদিনের ব্যস্ততায়। সেই টকশো, সেই পুরানো মুখ, পুরানো কথা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, তত্ত্বাবধায়ক না নির্দলীয়।

ইয়াবা, হেরোইন ইত্যাদির আগমন বন্ধ হবে না, আবার ঐশীরা নেশায় বুঁদ হয়ে থাকবে। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ঐশী বা কালো টাকা আর অসৎ উপার্জন ও আদর্শহীন পরিবারে বড় হতে থাকবে। ওরা নেশা করতে থাকবে। নেশার বাজারের হাজার কোটি লাভের টাকার ভাগ যাবে হয়ত আরেক ঐশীর বাবাদের কাছে। এর মধ্যে কোনো কোনো বাবারা ঐশীদের হাতে প্রাণ হারাবে।

এভাবে পাপ আর প্রায়শ্চিত্ত হতে থাকবে। আর আমরা নতুন করে নব্য কিছু কোটিপতি তৈরির জন্যে ভোট যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ব।

দ্য সার্কেল, দ্য সার্কেল।

লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক 
email: qbadal@yahoo.com
Google+

বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৩

'অভিজাত! যুবলীগ'

দৈনিক আজাদী                 উপসম্পাদকীয়              কাল আজ কাল
১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার ২০১৩ খ্রি: ১৭ শ্রাবণ ১৪২০ সাল ২২ রমজান ১৪৩৪ হিজরী

আমার কাছে বর্তমান যুবলীগের রাজনীতিকে বেশ অভিজাত অভিজাত বলে মনে হয়। কমিটির লোকবল থেকে শুরু করে কর্মসূচি ও বিভিন্ন প্রকাশনা দেখে মনে হয় এটি দেশের শিল্পপতিদের সন্তান বা ভবিষ্যতের শিল্পপতিদের একটি সংগঠন। বুঝতে বেগ পেতে হচ্ছে না ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কাদের হাতে যাচ্ছে।

বলা নেইকওয়া নেই নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে হুট করে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হল কেন্দ্র থেকে। আর এরপর থেকে আওয়ামী ঘরানার রাজনীতিতে ঘুরে ফিরে আসছে যুবলীগের নতুন কমিটির কথা। এই সংগঠনেরই অনেকে অভিযোগ করেছেন নতুন এই কমিটিতে অনেক সন্ত্রাসীচাঁদাবাজ ও পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামিও আছেন। তবে অন্য একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে এই কমিটি ঘোষণা ও তা অনুমোদনের জন্য প্রায় কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ টাকা দিয়ে কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ যদি সত্যি হয় তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন তদন্ত হওয়া জরুরি।

জাহাঙ্গির কবির নানক ও মির্জা আজমের পর যুবলীগের নেতৃত্বে আসেন আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী ও মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ। যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার আগে দেশের ছাত্র ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে এ দু’জনের নাম খুব একটা শুনেছি বলে মনে হয় না। তবে ওমর ফারুক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় হওয়ায় এবং আমাদের একই নির্বাচনী এলাকায় বাড়ি হওয়ায় নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম শুনেছি।

জাহাঙ্গীর কবির নানকের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রেক্ষিত আছে। ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। বর্তমান সরকারের মন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি বেশ সক্রিয়। তাঁকে নিয়ে কোনো বিতর্ক বা দুর্নাম শুনিনি এখনও।

মির্জা আজমও ছাত্র রাজনীতি করেছিলেনযুবলীগের সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার আগে। তবে তিনি বেশ আলোড়ন তুলেছিলেন ঘাতক গোলাম আজমের সাথে তাঁর নামের মিল থাকায় অ্যাফিডেভিট করে তাঁর নাম থেকে গোলাম শব্দটি বাদ দিয়ে।

আমার কাছে বর্তমান যুবলীগের রাজনীতিকে বেশ অভিজাত অভিজাত বলে মনে হয়। কমিটির লোকবল থেকে শুরু করে কর্মসূচি ও বিভিন্ন প্রকাশনা দেখে মনে হয় এটি দেশের শিল্পপতিদের সন্তান বা ভবিষ্যতের শিল্পপতিদের একটি সংগঠন। বুঝতে বেগ পেতে হচ্ছে না ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কাদের হাতে যাচ্ছে।

টাকা লেনদেন ও সন্ত্রাসীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেছেন যুবলীগ কমিটি গঠনের ব্যাপারে তিনি আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীডাআফসারুল আমিন ও আজম নাছিরের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। কী আশ্চর্যকমিটি হবে যুবলীগের। কথা বলতে হলে বলতে হবে আগের কমিটি ও স্থানীয় যুব ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে। এবং অবশ্যই কমিটি গঠন করা উচিত ছিল কাউন্সিলের মাধ্যমে সবার মতামতের ভিত্তিতে। যুবলীগের বিষয়ে তিন আওয়ামী লীগ নেতার মতামত নেওয়ার অর্থ হচ্ছে তাঁদের পছন্দের লোকদের কমিটিতে রাখা। যোগ্যসৎ ও প্রকৃত কর্মীদের কোণঠাসা করে রাখা। অবশ্য টাকা লেনদেনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। বর্তমান কমিটিতে সবাই অযোগ্য তা নয়। বরং এভাবে একটি কমিটি চাপিয়ে দিয়ে কমিটির যোগ্যদেরই বিতর্কিত করা হয়েছে।

এবার বলি যুবলীগের আভিজাত্যের কথা। গত ২৭ জুলাই শনিবার। চট্টগ্রামের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুক্তিযোদ্ধা লেখক রমা চৌধুরীর সাথে বঙ্গভবনে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় চল্লিশ মিনিটব্যাপী এই সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী গভীর মমতার সাথে রমা চৌধুরীর জীবনের কথা শুনেছেন এবং যে কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। ব্যক্তিত্ববাননির্লোভ রমা চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো সহযোগিতা চান নি। ব্যক্তিগত সহায়তা নয় শুধু তাঁর অনাথ আশ্রমের কথা বলেছেন। চট্টগ্রাম শহরে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যতাবোধ ও রমা চৌধুরীর নির্লিপ্ততার কথা বেশ আলোচিত হচ্ছিল সে সময় আমাদের পত্রিকা অফিসে ক’জন সহকর্মী এলেন ইফতার সেরে। তাদের আলাপে জানতে পারলাম মহানগর যুবলীগের আয়োজিত হোটেল আগ্রাবাদের ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলেন তাঁরা। একজন সাংবাদিক বন্ধুর হাতে একটি চমৎকার ও ঢাউস সাইজের বই দেখে আগ্রহ ভরে হাতে নিয়ে দেখলাম সেটি যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি হতে প্রকাশিত ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’ নামক আধা অ্যালবাম আধা প্রচার গ্রন্থটি। চাররঙে ছাপা বইটিতে প্রতিটি পৃষ্ঠায় শেখ হাসিনার হাস্যোজ্জ্বল রঙিন ছবি এবং কয়েকজন লেখকের লেখা। বলাবাহুল্য সবক’টিই শেখ হাসিনার জীবন ও রাজনীতি নিয়ে। বইয়ের নাম শেখ হাসিনার দর্শন বলা হলেও তা পরিষ্কারভাবে উঠে আসেনি। বইটি দেখে যে কারো মনে হতে পারে বইটি প্রকাশ করা হয়েছে যেন শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য। এতে রাজনৈতিকভাবে,বিস্তারিতভাবে বললে বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে কী বা কতটুকু ভূমিকা রাখবে তা আমার কাছে বোধগম্য হল না। ব্যয়বহুল বইটির দাম রাখা হয়েছে এক হাজার টাকাযদিও খরচের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি পড়েছে। দামের কথা চিন্তা করলে এই অ্যালবাম সবার পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। যাঁরা কিনতে পারবেন তাঁদের কাছে শেখ হাসিনাকে নতুন করে তুলে ধরার কী আছে বুঝতে পারলাম না। বরং দেশের সাধারণ মানুষখেটে খাওয়া মানুষ বিশেষ করে দেশের নারী সমাজের কাছে তাঁর কর্ম দর্শন ও রাজনীতি তুলে ধরার প্রয়োজন ছিল। কম দামে ও সহজ লভ্য করে শেখ হাসিনার অবদানতাঁর রাজনৈতিক ভাবনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল। এ ধরনের কোনো কিছু যুবলীগ কখনও করেছে কি না আমার জানা নেই। অথচ শেখ ফজলুল হক মনি এই যুবলীগকে নিয়ে অত্যন্ত আধুনিক ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে এবং আগামী নির্বাচনে এই প্রকাশনার ভূমিকা কী বুঝতে পারলাম না বলে দুঃখিত।

যেদিন অর্থাৎ গত শনিবার সাংবাদিকদের সৌজন্যে যুবলীগ ইফতার পার্টির আয়োজন করে চার তারকা মানের হোটেল আগ্রাবাদে। শুনেছি মাথাপিছু নয়শত টাকা বাজেটের ইফতার মাহফিলে দুইশত জনের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল ইছামতি হলে। সাংবাদিকদের জন্য ইফতার মাহফিল তাও আবার হোটেল আগ্রাবাদের মত অভিজাত ও ব্যয়বহুল হোটেলে কেন তার কোনো অর্থ খুঁজে পেলাম না। সাংবাদিকরা তাঁদের কাছে এমন কোনো আবদার করেছেন বলেও তো শুনিনি। এই ইফতারের দু’দিন পর পত্রিকায় পড়লাম এবার ঈদের তোহফা হিসেবে যুবলীগের নগর সভাপতির পক্ষ থেকে নয় লাখ টাকার এক হাজার নয়শতটি পাঞ্জাবি বিতরণ করা হবে। ঈদে পাঞ্জাবি বিতরণ খারাপ নয় বেশ সওয়াবের কাজ। সামনে যে দুর্দিন অপেক্ষা করছে আওয়ামী রাজনীতির জন্য তাতে এভাবে সওয়াব হাসিল করে রক্ষা পাওয়া যায় কি না চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে আমি এক গুনাহগার বান্দা হিসেবে খুশি হতাম যুবলীগ এই অভিজাত মার্কা বড় লোকি আচরণ ছেড়ে আমাদের মতো ছোট লোকদের কথা যদি একটু চিন্তা করতেন। চারতারা হোটেলে মাথাপিছু (নাকি প্লেট পিছুনয়শত টাকা খরচ না করে সে পরিমাণ টাকার ইফতার যদি গরিব অসহায় লোকদের বিতরণ করতেন। খুশি হতে পারতাম নয় লাখ টাকার পাঞ্জাবি সামর্থবানদের মধ্যে বিতরণ না করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিপতিত অসহায় মানুষের মধ্যে যদি ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হতো। খুশি হতাম ব্যয়বহুল ঝলমলে অ্যালবামের পরিবর্তে যদি শেখ হাসিনা সরকারের গত সাড়ে চার বছরের সাফল্যকে জনগণের মাঝে তুলে ধরতে ফলপ্রসূ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হতো। খুশি হতাম যদি তারা বড়লোকি আচরণ থেকে বেরিয়ে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করতে উদ্যোগী হতেন। জানি তার কিচ্ছুই হবে না। রাজনীতিক সংস্কৃতি বদলাবে না। টাকার কাছে সব নীতি আদর্শ বানের জলের মতো ভেসে যাবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দলও একদিন গণমানুষের নয় ধনী মানুষের দলে পরিণত হবে। উত্তর প্রজন্মের সন্তানেরা কোনো এক সময় পাঠ্যপুস্তকে পড়বে হয়ত। শোষণহীনবন্ধনহীনক্ষুধাহীন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান।

বর্তমানে দেশে যে সংকট চলছেযে যুদ্ধ চলছে তা অনুধাবনে যে যুবলীগ নেতৃত্ব ব্যর্থ তার জন্যে বোধ হয় কোনো গবেষণা করতে হবে না।

লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক email: qbadal@yahoo.com 

পোস্টসমূহ