পৃষ্ঠাসমূহ

বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

* বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও


দৈনিক আজাদী                            উপসম্পাদকীয়                           কাল আজ কাল
২৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০১৩ খ্রি . ১৬ ফাল্গুন ১৪১৯ সাল ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী

- কামরুল হাসান বাদল

কিছু রাজনৈতিক আলামতের কারণে তরুণদের মনে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জেগেছেঘাতক মানবতাবিরোধীদের প্রকৃত ও সর্বোচ্চ সাজা দিতে সরকার আন্তরিক কিনা। ১০ মাস পরের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোন বোঝাপড়া হচ্ছে কিনা। কিন্তু রাজনৈতিক কৌশলই হোক কিংবা আন্তরিকতাই হোক সরকার বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অতিদ্রুত তরুণদের সব দাবির প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে তাদের দাবি-দাওয়া পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

১৫ আগস্ট১৯৭৫। বিশ্বের সকল রীতি-নীতি ভঙ্গ করে নজিরবিহীনভাবে-ভোর ৬ টার আগে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু করা হয়েছে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে। এর ঘণ্টা দুয়েক আগে বাংলাদেশে ঘটে গেছে বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক হত্যাযজ্ঞ। একটি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা স্থপতিজনক ও রাষ্ট্রপতিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর সাথে হত্যা করা হয়েছে তাঁর পরিবারের সবাইকে। শিশুপুত্র রাসেলসহ। সংসদকে এই ‘শুভ সংবাদ’ প্রদান করে অধিবেশন শেষ করা হয়। পাকিস্তানের রাজধানীতে যখন এই অধিবেশন চলছিল তখনও বাঙালি জাতির অধিকাংশ ঘুমে। ঢাকায় বসবাসরত বিদেশি দূতাবাসমন্ত্রীসরকারি-কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছাড়া তেমন কেউ জানতেও পারেনি এমন নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের কথা তখনও। তবে সেই ভোরে আরেক ব্যক্তি বেশ ফুরফুরে মেজাজে দাড়ি কামাচ্ছিলেন। এ সময় টেলিফোনে যখন একজন সামরিক অফিসার তাঁকে খবর দিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইজ ডেড’।’ তিনি প্রায় সাথে সাথে উত্তর দিলেন ‘সো হোয়াট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার।’ তাঁর তাৎক্ষণিক জবাবে মনে হলো এই সংবাদ তিনি আগে থেকেই জানতেনঅথবা এমনও হতে পারে এমন একটি সংবাদের অপেক্ষায় তিনি অস্থির ও নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। ইনি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান। তৎকালীন সেনা-উপ প্রধান।

১৫ ফেব্রুয়ারি২০১৩। রাত নটার কাছাকাছি সময়ে ঘাতকদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তাব্লগারস্থপতি রাজিব হায়দার শোভন। তাঁর মৃত্যুর খবর দেশবাসী জানার আগেই প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে পাকিস্তানের একটি ব্লগ থেকে রাজিবের নামে ছাড়া হলো, ‘নূরানি সমগ্র’ নামে একটি লেখা। যে লেখায় ইসলাম ধর্ম এবং তার রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। আর এর জন্যে প্রস্তুত ছিল এদেশে বসবাসকারী মানসিকভাবে পাকিস্তানি তরুণব্লগার তথা জামায়াতশিবির ও তাদের সৃষ্ট বিভিন্ন নামধারী সংগঠনের কর্মীও তাদের নাটের গুরু বলে পরিচিত একটি দৈনিকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। এরপরে আর যায় কোথায়। সাংবাদিকতা ও সভ্যতার সকল নিয়ম কানুন তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন এই পত্রিকায় চলতে থাকে রাজিব ও তাঁর সতীর্থ-তরুণ বন্ধু যারা এই শতাব্দীর প্রথম সেকুলার ও অহিংস গণজাগরণের অকুতোভয় যোদ্ধাতাদের চরিত্র হনন।
এই পত্রিকা এবং এর সম্পাদকের নৈতিকতাহীন কর্মকাণ্ডের কারণে গত শুক্রবার সারা বাংলাদেশে ঘটে গেছে স্মরণকালের সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা। ‘হেফাজতে ইসলাম’ তৌহিদি জনতা ইত্যাদি ব্যানারে মূলত জামায়াত শিবিরের কর্মী সমর্থকরা নিষ্ঠুরভাবে সাংবাদিকদের পিটিয়েছেন,পুলিশকে মেরেছে। অগ্নিসংযোগ ও তছনছ করেছে দেশের অনেক স্থানের গণজাগরণের মঞ্চ। এমন কি স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে এই প্রথম কোন অপশক্তি ধ্বংস করেছে আমাদের চেতনা ও গৌরবের সুউচ্চ মিনারশহীদ মিনার। তারা পুড়িয়ে দিয়েছে ত্রিশ লক্ষ প্রাণ আর প্রায় ৪ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীন পতাকা। এর সাথে প্রতিষ্ঠার পরে এই প্রথম কোন অপশক্তি হামলা ও ভাঙচুর করেছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব। দীর্ঘ ও টানা ১৭ দিনের অহিংস আন্দোলনের পরে এমন সহিংস নিষ্ঠুর ও বর্বর আচরণ দেখে বাংলাদেশের মানুষ সত্যিই ব্যথিতবিস্মিত ও হতবাক হয়েছে।

তরুণদের এই মহা জাগরণ ঘটেছে মূলত সরকার বিরোধী মনোভাব নিয়ে বা সরকারের অবস্থানের বিরোধীতা করতে গিয়ে। প্রথম রায়ে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় রায়ে জামায়াত নেতা ও মিরপুরের কসাই বলে কুখ্যাত কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় না দিয়ে দেয়া হয়েছে যাবজ্জ্বীবন। এই রায়ের আগের দিন মতিঝিলে শিবিরের সমাবেশ থেকে পুলিশকে ফুল দেয়া হয়েছিল। অথচ এই স্লোগান দেয়ার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই তারা বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর চড়াও হয়েছেআক্রমন করেছে। এই ঘটনা এবং এর আগের কিছু রাজনৈতিক আলামতের কারণে তরুণদের মনে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জেগেছেঘাতক মানবতাবিরোধীদের প্রকৃত ও সর্বোচ্চ সাজা দিতে সরকার আন্তরিক কিনা। ১০ মাস পরের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোন বোঝাপড়া হচ্ছে কিনা। কিন্তু রাজনৈতিক কৌশলই হোক কিংবা আন্তরিকতাই হোক সরকার বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অতিদ্রুত তরুণদের সব দাবির প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে তাদের দাবি-দাওয়া পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আর অন্যদিকে এই গণজাগরণের মঞ্চ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মত ও মন্তব্য প্রকাশ করে বিএনপি এই আন্দোলন ও তরুণদের নিজেদের বিপক্ষে ঠেলে দেয়। অথবা নিজেরাই জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এই আন্দোলনের প্রতিপক্ষে অবস্থান নেন। আজ অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হওয়া সত্বেও বিএনপি জামায়াতের বৃত্ত থেকে বের হতে না পারা দেখে বিএনপিরই স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে-বিচারাধীন সাকা চৌধুরীর ভাষায় বলতে হয়, ‘লেজে কুত্তা নাড়াচ্ছে’।

শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে আজ দেশের সবক’টি ছাত্র-সংগঠনের কর্মীরা স্বতর্স্ফুতভাবে অংশ নিচ্ছে শুধু মাত্র ছাত্রদল ছাড়া। বিএনপির এই রাজনৈতিক আত্মহত্যার দায়-কার ওপর বর্তাবে তা প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রইলাম।
দেশের গণজাগরণ দেখে বিএনপি এবং তাদের সমর্থিত কিছু সংবাদ মাধ্যম ও মুখপাত্ররা দেশে গৃহযুদ্ধ হবে বলে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর সাথে অবশ্য সমাজের কিছু সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবীও গলা মিলিয়েছেন। আমি বিনয় ও দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই যুদ্ধতো এখনোই চলছে,তাতে আর বাকি কিতবে এই যুদ্ধ গৃহযুদ্ধ নয় মুক্তিযুদ্ধ। আর এবার যদি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ শুরুও হয় তাতেও পরাজিত হবে একাত্তরের পরাজিত শক্তিই। এবং সেই যুদ্ধ একাত্তরের মতো দীর্ঘ নয় মাসও স্থায়ী হবে না।

তার আগেই পতন ঘটবে এই অপশক্তির।

বাঙালির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসকে এরা বারবার ইসলাম বিরোধী বা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে অপপ্রচার চালিয়েছে। ’৫২, ’৬২, ’৬৬, ’৬৯, ’৭০ সহ মহান মুক্তিযুদ্ধকেও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে তারা নিজেরাই ষড়যন্ত্র করেছে। হত্যাগণহত্যালুণ্ঠনঅগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের মতো অপকর্মগুলো করেছে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করেই। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। একাত্তরের মতো এবারও তারা সবচেয়ে স্পর্শকাতর ধর্মানুভূতি নিয়ে নোংরাকদর্য ও অমানবিক খেলায় লিপ্ত হয়েছে। মিথ্যাহিংসাধ্বংসহত্যার মাধ্যমে তারা সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে রাখতে চায় এবং এক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করছে। এই গণজাগরণ ঠেকাতে তারা মসজিদের কার্পোটে আগুন দেয়ামসজিদের টাইলস ভেঙে পুলিশকে আক্রমন করার মতো কদর্য কাজও করেছে। এমনকি তারা নিজেরাই কোরআন পুড়িয়ে তা গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ঘাড়ে চাপানোর মতো ষড়যন্ত্রও করেছে। আর এই কাজে তাদের প্রধান সহায়ক শক্তি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের এক শ্রেণির ব্লগার লেখকরা।

যারা আমাদের শহীদ মিনার ভেঙেছেআমাদের পতাকায় আগুন দিয়েছেযারা স্বাধীন বাংলার মাটিতে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়েছে তাদের সাথে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব কি না তা হাজারবার ভেবে দেখতে হবে। যারা বা যে দল মুখে স্বাধীনতার কথা বলেস্বাধীন বাংলাদেশের দুধ-সর খেয়ে যারা আজ ঐ অপশক্তিরই পক্ষে অনড় থাকে তাদের ব্যাপারে স্থির একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়ও এখন।


লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
email: qbadal@yahoo.com


* লেজের কুত্তা নাড়ানো এবং হলুদ সাংবাদিকতা

সুপ্রভাত বাংলাদেশ                     উপসম্পাদকীয়              
চট্টগ্রাম | THURSDAY, FEBRUARY 28, 2013 | ১৬ ফাল্গুন ১৪১ বঙ্গাব্দ

• কামরুল হাসান বাদল

তরুণদের মিলিত এই সংগ্রামের নাম গণজাগরণ। এর বাইরে যারা যাবে তারা ভবিষ্যতের পরিক্রমার পথ খুঁজে পাবে না। এই তরুণ কোন দলের প্রতি আনুগত্য দেখানোর চেয়ে দেশ ও জাতির প্রতি আনুগত্য দেখাবে বেশি। অসৎ রাজনীতিকের সিঁড়ি হিসেবে ছাত্র-তরুণদের ব্যবহার করবার দিন বুঝি ফুরিয়ে এলো। এই বাস্তবতা যে রাজনৈতিক দল আগেভাগে অনুধাবন করতে পারবে ততই তার মঙ্গল হবে।
গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সাধারণত দেখা যায় যুগপৎ আন্দোলন সংগ্রামে ছোট দলগুলো বড় দলকে অনুসরণ করে থাকে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি দীর্ঘদিন থেকে তাদের তুলনায় অনেক ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দল জামায়াতকে অনুসরণ করে আসছে। বিষয়টি বিস্ময়কর শুধু নয়, এই প্রবণতা বিএনপির রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিলও বটে।
মুক্তিযুদ্ধে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের বিতর্কিত ও নিন্দনীয় ভূমিকার জন্যে স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতসহ সমস্ত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু ৭৫ এ জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে যে শক্তির উত্থান হয়েছিল সে শক্তির শিখ-ি জেনারেল জিয়া দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পথ উন্মোচন করে দেন। শুধু তাই নয় জিয়াউর রহমান গোলাম আযমকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন এবং পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া তাঁকে নাগরিকত্ব প্রদান করেন। জিয়া তাঁর মন্ত্রিসভায় রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে পাকিস্তান এবং এদেশে বসবাসকারী পাকিস্তানি মনোভাবাপন্ন শক্তিকে জানিয়ে দেন যে তিনি আসলেই কাদের লোক।
সে ইতিহাস হিসাব করলেও বিএনপির প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও নির্ভরশীলতা থাকার কথা জামায়াতের। অথচ কী উল্টো, বছরের পর বছর এমন কি গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে বাঙালি জাতি যুদ্ধাপরাধী তথা জামায়াতের শীর্ষ নেতা এবং মানবতাবিরোধী শীর্ষ অপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে যখন একাট্টা ও সোচ্চার তখনও বিএনপি জামায়াতের আঁচলের তলায় লুকিয়ে আশ্রয় নিতে চাইছে। বিএনপির এই আচরণকে তাদেরই এক শীর্ষ নেতা বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধে কারাগারে বিচারাধীন সাকা চৌধুরীর ভাষায় বলতে চাই, ‘এতদিন জানতাম কুত্তায় লেজ নাড়ায়, এখন দেখছি লেজে কুত্তা নাড়াচ্ছে।
মূলত গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিএনপি-জামায়াতের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা ভয় পেয়ে গেছে। ভয়ার্ত মানুষ স্বাভাবিক আচরণ করে না। যেমন এখন বিএনপি-জামায়াত জোট স্বাভাবিক আচরণ করছে না। বিএনপির এক একজন নেতা শাহবাগ বা গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে একেকবার একেক ধরনের কথা বলছেন। কেউ এটাকে নাটক বলছেন  তো অন্যজন একে স্বাগত জানিয়ে বলছেন তরুণদের এই জাগরণ যেন আওয়ামী লীগ হাইজ্যাক করতে না পারে। একদল বলছেন এটি সরকার বা আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা দাবির আন্দোলন বা পদ্মা সেতুর দুর্নীতি থেকে জনগণের দৃষ্টি ও মনোযোগ অন্যত্র ফেরাতে। ঠিক সে সময়ে অন্যদল বলছেন এই মঞ্চকে স্বাগত জানাই তবে—যদি—ইত্যাদি ইত্যাদি।
সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ কিছু তরুণের এই উদ্যোগ আজ সারাদেশে মহা গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে। ২২ দিন নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন ও সমাবেশে একটি ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মারামারি, কাটাকাটি, পাল্টা সেøাগান, মঞ্চ দখল চাঁদাবাজির মতো কোন কিছুই এই সমাবেশে ঘটেনি আজও। তরুণদের মধ্যে কোনরূপ ফাটল ধরাতে না পেরে এবং তাদের কোনরূপ ত্রুটি বা দুর্বলতা আবিষ্কার করতে না পেরে জামায়াত-শিবির এবং তাদের সমর্থিত একটি পত্রিকার স্বঘোষিত ও স্বনিয়োজিত ভারবাহী সম্পাদক নোংরা, কদর্য, অশালীন, অমানবিক ও বিপজ্জনক এক পন্থা বেছে নিয়েছেন। তাঁরা গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তা তথা ব্লগারদের চরিত্র হননের কাজে লিপ্ত হয়েছেন। তাঁরা তাঁদেরই হাতে নিহত ব্লগার রাজিব হায়দার শোভনের নামে মিথ্যা আইডি দিয়ে সৃষ্ট ব্লগে আপত্তিকর কথা লিখে এবং তা ঐ পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে দেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। তারা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা করছেন। গত শুক্রবার জুমা নামাজের পর সারা বাংলাদেশে একদল উন্মত্ত মানুষ যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে তার জন্যেও দায়ী ঐ পত্রিকা এবং তার স্বঘোষিত সম্পাদক।
গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই কথিত সেই পত্রিকা এবং তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, যিনি নজিরবিহীন ভাবে নিজ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় নিজের ছবিসহ কলাম ও সম্পাদকীয় লেখেন, নিয়মিত এই চত্বর এবং এর উদ্যোক্তাদের বিষয়ে আপত্তিকর সংবাদ ছাপিয়ে তরুণদের উত্তেজিত করতে চেয়েছেন। তিনি  চেয়েছিলেন তাঁর এমন কদর্য কর্মকা-ে তরুণরা খেপে গিয়ে তাঁর বা পত্রিকার কার্যালয় ভাঙচুর করুক তিনি যেন তা তাঁদের পেইড মিডিয়াগুলোর মাধ্যমে দেশসহ বিশ্ববাসীকে দেখাতে পারেন। কিন্তু তা হয়নি। অহিংস আন্দোলনের প্রতিটি যোদ্ধা নিজ এবং আন্দোলনের প্রতি সৎ থেকে ঐ পত্রিকার পাতানো ফাঁদে পা দেয়নি। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মিস্টার ভারপ্রাপ্ত তরুণদের বিরুদ্ধে নাস্তিকতার অভিযোগ এনে উত্তেজিত করে তুলেছেল মুসলিম সম্প্রদায়কে। এই অপসাংবাদিকতা, এই নষ্ট সাংবাদিকতা, এই হলুদ সাংবাদিকতা যদি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হয় তা হলে সেই স্বাধীনতা দেশের অধিকাংশ জনগণ তাদের দেবে কিনা তা ভাবার বিষয়। বরং আমি মনে করি দুদিনে গজিয়ে ওঠা এই তথাকথিত সম্পাদক বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের মধ্যে বেশি অনৈক্য, অবিশ্বাস, দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন। এর মাধ্যমে ঐ পত্রিকা ও সম্পাদক সাংবাদিকদের জীবনও বিপদাপন্ন করে তুলেছেন।
গত শুক্রবার প্রায় ৩৫ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার জন্যেও প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে দায়ী ঐ দৈনিকটি। সে সাথে বলতে হয় স্বাধীনতার ৪২ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আক্রান্ত হওয়ার পেছনেও উস্কানি হিসেবে কাজ করেছে ঐ পত্রিকাটি। ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একটি গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। তার ২৩ বছর পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অনতিদূরে শাহবাগে শতাব্দির অন্যতম অহিংস ও দলনিরপেক্ষ তরুণদের জাগরণে ছাত্রদল বা তার কর্মীরা অনুপস্থিত। রাজনৈতিক হঠকারিতা বিএনপিকে একটি ক্ষুদ্র রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করবে। সে সাথে ছাত্ররাজনীতিতে ছাত্রদলের রাজনীতিরও কবর রচিত হবে।
তরুণদের মিলিত এই সংগ্রামের নাম গণজাগরণ। এর বাইরে যারা যাবে তারা ভবিষ্যতের পরিক্রমার পথ খুঁজে পাবে না। এই তরুণ কোন দলের প্রতি আনুগত্য দেখানোর চেয়ে দেশ ও জাতির প্রতি আনুগত্য দেখাবে বেশি। অসৎ রাজনীতিকের সিঁড়ি হিসেবে ছাত্র-তরুণদের ব্যবহার করবার দিন বুঝি ফুরিয়ে এলো। এই বাস্তবতা যে রাজনৈতিক দল আগে ভাগে অনুধাবন করতে পারবে ততই তার মঙ্গল হবে।
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক 
email: qbadal@yahoo.com 

বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

* একাত্তর ফিরেছে, তবে দুভাবেই

দৈনিক আজাদী                               উপসম্পাদকীয়                         কাল আজ কাল
২১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০১৩ খ্রি . ৯ ফাল্গুন ১৪১৯ সাল ১০ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী

কামরুল হাসান বাদল    
জয় বাংলা’, ‘তোমার আমার ঠিকানাপদ্মামেঘনা যমুনা’, ‘তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি’,গগনবিদারী এই স্লোগানে স্লোগানে শাহবাগ থেকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব হয়ে একাত্তর ফিরে এসেছে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই ব-দ্বীপ অববাহিকায় আমাদের পারিজাত প্রিয় বাংলাদেশে। বাঙালির রক্তে লেগেছে দোলাচেতনায় হেনেছে টান। ঘরকুনো বাঙালিকে বড়শি গাঁথা মাছের মতো টেনে এনেছে শাহবাগেগণজাগরণ মঞ্চে। তাদের বুকে একাত্তরের সাহসস্বপ্ন আর উদ্দীপনা। চোখে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশঅসাম্প্রাদায়িক বাংলাদেশএকটি সত্যিকার আধুনিক বাংলাদেশ।
অনেকেই মনে করেছেন শাহবাগের এই গণজাগরণের নেপথ্যের কারিগর তথা ব্লগার তথা তরুণ প্রজন্ম হঠাৎই বুঝি এমন আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। আসলে তা নয়। তরুণদের এই সাইবার যুদ্ধ পক্ষান্তরে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ বা আচমকা নয়। এই যুদ্ধ প্রস্তুতিহীনও নয়। গত প্রায় পাঁচ বছর থেকে আমাদের দেশের একদল দেশপ্রেমিক তরুণ ইন্টারনেটে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এই মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিলেন। এই তরুণরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে অত্যন্ত মেধাবীসৎ এবং তারা কঠিন ভাবে দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন দেশ তথা পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের ব্লগারদের অপপ্রচারের জবাব দিতে এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে তারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সন্ধান করেছেন অধ্যয়ন করেছেন,নিজেদের ঋদ্ধ করেছে এবং অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন।

এঁরা কোনদিন রাজনীতি করবে বলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শেখেনি। শিখেছেন নিজ গরজেদেশকে ভালবাসেন বলে। এরা কোনদিন ভাবেনিএই জাতির ইতিহাসেএই শতাব্দির ইতিহাসে বিশ্বের রাজনীতির ইতিহাসে তারা কোন দিন নায়কের আসনে বসবে। ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে যখন মাত্র দু’টি ব্যানার নিয়ে ১৫/২০ জন তরুণ প্রতিবাদ জানাতে দাঁড়িয়েছিল শাহবাগের মোড়ে তখন কি তারা জানতো তারা এক গণসমুদ্রের উৎসধারা। এর আগে তারা এই যুদ্ধ চালিয়ে এসেছে ব্লগে,ফেসবুকে। কারণ বাংলাদেশ নিয়েএর জন্ম ইতিহাস নিয়ে তথ্য ও ইতিহাস বিকৃতি কখনো থেমে থাকেনি। পাকিস্তানি ব্লগারদের সাথে বরাবর যুক্ত থেকেছে এদেশেরই কিছু সন্তান যাদের পূর্বসূরিরা একাত্তরে এ জাতির জন্মক্ষণে বিরোধীতা করেছিল। যারা এখনো বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি। যারা এখনো এই গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে মিথ্যাবিভ্রান্তিকরআপত্তিজনক প্রচার চালাচ্ছে। এবং যাদের আক্রোসের বলি হয়েছে এই মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা স্থপতিব্লগার রাজিব হায়দার শোভন।

বাংলাদেশ যেখানে থাকার কথা যদি সেখানে থাকতো। বাংলাদেশের রাজনীতি যেভাবে চলার কথা যদি সেভাবে চলতোবাংলাদেশের রাজনীতিকরা যদি সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হতো তা হলে তরুণদের এই উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন পড়তো না। চেষ্টা করলেও তা সফল হতো না। তরুণদের এই উদ্যোগ নারী-পুরুষধনী-গরীবশিশু-কিশোর সাধারণ অসাধারণ সবার অংশ গ্রহণ প্রমাণ করে বাংলাদেশ এমন একটি আহবানের এমন একটি উদ্যোগের অপেক্ষায় ছিল। এই গণজাগরণের সাফল্য যদি তরুণদের হয় তবে ব্যর্থতা রাজনীতিবিদদের। কারণ তারা জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল। এরচেয়ে কম লোকসংখ্যার জনসভা সফল করতে প্রধান প্রধান দলগুলোকে কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হয়। অথচ এখানে বিরতিহীন অর্ধ মাসে ভালবাসার টানেই এসেছে মানুষ সারা বাংলা থেকে নিজেদের উদ্যোগে। নিজেদের খরচে। খাবার সরবরাহ করছে স্বউদ্যোগে। চাঁদাহীন অর্থে।

অর্থ নয়সম্পদ নয়ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়। পদ নয় পদবি নয়হলের রুম নয়টেন্ডারের ভাগ নয়কাজের বখশিস নয়উন্নয়নের চাঁদা নয়এবঙ নতুন কোন দাবি দাওয়া বা মতবাদ নয়। তারা এসেছে স্রেফ মাটির টানেপ্রাণের টানেদেশের টানেইতিহাসের টানেমানবতা ও সত্যের টানে। একাত্তরের চেতনায় দেশকে জাগ্রত করার টানে। তারা সফলতারা ফিরিয়ে এনেছে একাত্তর। তারা ফিরিয়ে এনেছে একাত্তরের বা বাঙালির দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের উজ্জীবনী স্লোগান জয় বাংলাকে। ফিরিয়ে এনেছে পদ্মামেঘনাযমুনাকে। তারা মনে করিয়ে দিয়েছে ‘আমি বাঙালি’।

গত পাঁচ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত কোথায় কী কী ঘটেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ সমগ্র জাতির দৃষ্টি এখন শাহবাগ থেকে সমগ্র বাংলার গণজাগরণ মঞ্চের দিকে। কারণ একাত্তর জেগেছে। সত্যি একাত্তর জেগেছে আমাদের বুকেহৃদয়ে আর শত্রুদের মস্তিষ্কের কুটিল রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

মৃত্যুর পরে যে সৎকার তা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটু অনন্য আধুনিক। যেমন নামাজে জানাজার আগে দায়িত্বশীল একজন এসে মৃতের পক্ষে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ইসলাম ধর্মমতে কর্জ পরিশোধ না করে কেউ মৃত্যুবরণ করলে এবং ঐ ঋণদাতা যদি ক্ষমা না করেন তাহলে ঋণগ্রহীতা বা কর্জদার কখনো জান্নাত বা বেহেস্তে যেতে পারেন না। তাই জানাজার আগে মৃতের পক্ষ থেকে তার পরিবারের দায়িত্বশীল কেউ তার কর্জ পরিশোধের দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। এ সময় মৌলানা বা পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় ক্ষমা করেছেন কিনামুসুল্লিরা বলেন,জি হ্যাঁ করেছি। জানাজার পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি বলা হয়ইমাম বলেনলোকটি কেমন ছিলেনমুসল্লিরা বলেন বড় ভাল ছিলেন। এই হচ্ছে ইসলামের রীতি। ক্ষমা ও মানবতার এক অপরূপ নিদর্শন।

শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা তরুণ ব্লগার স্থাপতি রাজীব হায়দার শোভনকে হত্যা করা হয় কয়েকদিন আগে। তাঁর পরিবার ও তাঁর বন্ধু-স্বজনদের মতে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য জামায়াত-শিবিরই দায়ী। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। অথচ এরই মধ্যে জামাত শিবির সমর্থিত বিভিন্ন ব্লগেটেলিভিশন ও পত্রিকায় রাজীবের চরিত্র হননে নগ্ন ভাবে মাঠে নেমেছে একদল কাপুরুষ যারা নিজেদের ইসলামী বা ইসলামের রক্ষক বলে দাবি করছেন। এরা রাজীবসহ তার সতীর্থদের ধর্ম বিরোধীইসলাম ও নবীজীর (.) বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্যকারী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টার ফাঁকে ফাঁকে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চকে নাস্তিকদের সমাবেশ ও আয়োজন বলে জনগণের মধ্যে ভুল ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছে। একজন মৃত মানুষের চরিত্র হনন করে এরা মূলত ইসলামের উদারসার্বজনীন ও ক্ষমার আদর্শকে অপমান করছে। অথচ এরা মুখে বলে তারা ইসলামের সৈনিক।

আমি বলতে চেয়েছি একাত্তর জেগেছে তবে দু’পক্ষেই জেগেছে। বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ গৌরব আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। রাজাকার বা একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় অধ্যায়। এ কাজ শুধু আওয়ামী লীগ বা সরকারের নয়। এ কাজ সমগ্র বাঙালি জাতির। আমাদের অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিণতি আসতে পারে পরাজিত শক্তিকে নির্মূল করার মাধ্যমে। দ্রুততম সময়ে বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি বিধানের মাধ্যমে। একাত্তরে যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিল তখন গোলাম আজমনিজামীফজলুল কাদেরসালাউদ্দিন কাদেরমুজাহিদ,কামারুজ্জামানআলীমসাঈদীবাচ্চু রাজাকারশাহ আজিজদের মতো অনেকেই সেদিন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ইসলাম বিরোধীইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং এর নেতাদের নাস্তিক মুরতাদ আখ্যা দিয়েছিল। শুধু তাই নয় মুক্তিযুদ্ধ ঠেকাতে যা যা করার প্রয়োজন সেদিন তারা তা তা করেছিল। সে সব কারণে আজ তাদের বিচারের সম্মুখিন হতে হয়েছে। বিচার চলছে। এদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার কাহিনী পাঠকদের জানা হয়ে গেছে এতদিনে।

আজ ৪২ বছর পরে একাত্তরের সে সব খুনিধর্ষকলুণ্ঠনকারী ও অগ্নিসংযোগকারীদের বিচার চলছে। এই বিচার প্রক্রিয়ায় বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। জামাত নেতা কাদের মোল্লার দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন। এই রায়ে খুশী নয় তরুণ প্রজন্মসারা বাংলার জনগণ। এই বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন জেগেছে তরুণদের মনে। তাই তারা বিক্ষোভ করছে। দাবি জানাচ্ছে একাত্তরের ধর্ষক ও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার। এই আন্দোলনের ফলে সরকারের ভেতর যে সংশয়দোদুল্যমানতা কাজ করছিল তা দূরিভূত হয়েছে। তারা আরো সতর্ক হয়েছে বিচার প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিতে। সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের যে ক্ষোভ ছিল তাদের দাবি অতিসত্ত্বর মেনে নেওয়ার মাধ্যমে সরকার তরুণদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে সমর্থ হয়েছে। কিন্তু মূল যে শক্তির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন সেই একাত্তরের পরাজিত শক্তি একাত্তরের শকুনের মতো খামছে ধরেছে সকল ধরনের মানবতাচক্ষুলজ্জা ভদ্রতা ও সভ্যতার চাদরকে। একাত্তরের তাদের পূর্বসূরিদের মতো এবারও তারা এই আন্দোলনকে নাস্তিকদের আন্দোলন,ইসলাম ও নবীজীর বিরুদ্ধে আন্দোলন বলে-ধর্মভীরু মানুষদের বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। একাত্তরে জামাতমুসলিম লীগনেজামে ইসলামসহ তাদের মতাদর্শের দল ও ব্যক্তিরা মহান মুক্তিযুদ্ধকে যেভাবে কটাক্ষ করেছিল এর বিরুদ্ধে নগ্নভাবে যে ষড়যন্ত্র করেছিল ঠিক ৪২ বছর পরে শাহবাগ ও গণজাগরণ মঞ্চের নবীন মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধেও এমন কুৎসা রটাচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যম। এরা সাংবাদিকভাবতেও গা গুলিয়ে ওঠে। এই অপশক্তির দীর্ঘকালের মিত্র দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দলের এক প্রকার মুখপত্র হিসেবে পরিচিত পত্রিকাটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতেও রুচি হয় না।

একাত্তরে যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল দেশেসে যুদ্ধ আজও বহমান। ফ্রন্টসেক্টরচরিত্রনেতৃত্ব ও সময় বদলেছে বিস্তর কিন্তু শত্রু বদলায়নি। বরং এর মাত্রা বেড়েছে বহুগুণে বহুরূপে। মনে রাখতে হবে একজন রাজাকার আজীবন রাজাকার কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধা আজীবন মুক্তিযোদ্ধা নন। যেমন একজন নামকরা টাইগার এখন বিড়ালে পরিণত হয়ে ইঁদুরের খোঁজে নালা-নর্দমায় ছুটছেন।

তবে আশার কথা হচ্ছেপৃথিবীর ইতিহাস বলেসভ্যতার ইতিহাস বলে, ‘সত্যের জয়ই সুনিশ্চিত’। আঁধার ফুঁরে আলো আসবে ঠিকই। আমরা তো একাত্তরেও জয়লাভ করেছিলাম। এবারও জয় আমাদের সুনিশ্চিত। নিষ্পাপ তরুণের রক্ত এ বাংলায় কখনো বৃথা যায়নি। না বায়ান্নতেনা বাষট্টিতেনা ঊনসত্তরেনা একাত্তরে।

দুঃসময়ে বন্ধুর পরিচয়। বাংলা মায়ের আজ এক প্রকার দুঃসময়। শুধু তার সন্তান হিসেবে দুঃসময়ের বন্ধুদের চিনে রাখতে হবে। আর চিহ্নিত করতে হবে ঘাতকদের দোসরবন্ধু রাজনৈতিক মিত্র আর মধ্যরাতে নিরপেক্ষ সেজে যারা এতদিন হেদায়েত করেছিলেন আমাদের/তাদের চেহেরাকে।
          
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
email: qbadal@yahoo.com 

বৃহস্পতিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

* শাহবাগ থেকে প্রেস ক্লাব, শতাব্দির প্রথম অহিংস আন্দোলন

দৈনিক আজাদী                          উপসম্পাদকীয়                         কাল আজ কাল
১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০১৩ খ্রি. ২ ফাল্গুন ১৪১৯ সাল ৩ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী

৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত। পত্রিকা অফিস থেকে বাসায় ফিরছি। মোমিন রোডে দেখা পেলাম চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পরিচিত মুখ রুবেল দাশ প্রিন্সের। সে বললদাদা আগামীকাল কাদের মোল্লার বিচারের রায ঘোষিত হবে। আমরা একটি বড় পতাকা বানিয়েছি। রায় ঘোষণার পর শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফীর গায়ে জড়িয়ে দেব পতাকাটি।’ সে আরো বললো, ‘ফোন করব,আপনিও আমাদের সাথে যাবেন।’ আমি সম্মতি জানিয়ে ফিরে এলাম বাসায়।

৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার। রায় ঘোষিত হলোরাজাকার আর বিএনপি ছাড়া সারা বাঙলার মুক্তিকামী মানুষকে বিস্ময়ে বিমূঢ় করেহতাশ করেক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করে। দুপুরে রুবেলসহ বেশ ক’জন তরুণ জানালো সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ মানববন্ধন করবে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে। যাব বলে কথা দিলাম। শুরুর আগে রুবেল ফোন দিল ঠিকইকিন্তু যাওয়ার আগে আগেই হঠাৎ মনে হলোকেন যাবআর কতদিন যাবকী করতে যাবএতকিছুর পরেএত হত্যাগণহত্যা করেও লোকটির শুধুমাত্র যাবজ্জীবন জেল হলো। খুব হতাশ হয়ে পড়লাম। বুকটা ভেঙে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত মানববন্ধনে গেলাম না।

৬ ফেব্রুয়ারিবুধবার। সকাল থেকে অনেকে ফোন করছেন কর্মসূচি নিয়ে। প্রেস ক্লাবের সামনে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ ও চট্টগ্রাম অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামসহ অন্যান্যদের কর্মসূচি এর পাশাপাশি শহীদ মিনার চত্বরে আরেকটি সমাবেশ। রাশেদ হাসানরুবেল দাশ প্রিন্স,শ্যামল ধরইউসুফ সোহেলপ্রীতম দাসসহ বেশ কজন তরুণ কর্মসূচি নিয়ে আলাপ পরামর্শ করছিলো। কথা হচ্ছিল কোন সমাবেশটি কোথায় যাবে তা নিয়ে। প্রেস ক্লাব থেকে শহীদ মিনার না কি শহীদ মিনার থেকে প্রেস ক্লাব। আমি বললাম শুরু হোক আগে। বিকেলে যখন প্রেস ক্লাব চত্বরে যাই তখন শরীফ চৌহানহাসান ফেরদৌস ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের সমন্বয়ে ও নেতৃত্বে উদীচীসহ বেশ ক’টি সংগঠনের অংশগ্রহণে শুরু হয়ে গেছে প্রতিবাদী অনুষ্ঠান। এই উদ্যোগের পিছনে প্রেরণা ও মডেল হিসেবে কাজ করছিল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া শাহবাগের জমায়েত যা এখন গণজাগরণ মঞ্চ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে দেশে-বিদেশে। এরপর প্রতিটি মুহূর্তে এই সমাবেশে যুক্ত হচ্ছেন চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণ। গৃহবধূ থেকে কয়েকমাসের শিশু,দোকানদারশ্রমিক থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা।

আমি যে অংশটুকু প্রত্যক্ষ করেছি শুধু তাই লিখলাম। এই উদ্যোগ শুরু থেকে অনেকেই আছেন যাঁদের নাম আমার এখানে আসে নি। তাঁদের সকলেরই অবদান আছে। এই উদ্যোগে কার্যত আমার তেমন কোন অবদান নেই।
এই প্রথম আমি বুঝতে পালাম আমার বয়স হয়েছে। কারণ রায়ে হতাশ হয়েব্যথিত হয়ে আমি ঘরে বসে রইলাম আর ঢাকার তরুণরা তা না করে সমবেত হলো শাহবাগেচট্টগ্রামের তরুণরা প্রেস ক্লাব চত্বরে। ইতিহাসটি রচিত হলো তরুণদের হাতেই। আমার মতো বয়স্করা শুধু অবাক চোখে তরুণদের উত্থান দেখলামজাগরণ দেখলামইতিহাসের দর্শক হয়ে রইলাম শুধু।

এখন যৌবন যার মিছিল বা যুদ্ধে যাওয়ার তারই তো শ্রেষ্ঠ সময়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখি বায়ান্ন থেকে একাত্তর পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সকল আন্দোলন সংগ্রামই তো তরুণদের দ্বারা সংঘঠিত। অর্থাৎ এ দেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামই তরুণদের মেধাশ্রমরক্ত ঘামেরই ফসল।

তবে এবারের আন্দোলনের চরিত্রটি ভিন্ন। আগেই বলেছি উদ্যোক্তারা সবাই তরুণ যাদের বয়স ২৫-৩০ এর বেশি নয়। এদের কারুর কোন রাজনৈতিক উচ্ছাভিলাষ নেই। তেমন একটি দলীয় পরিচয়ও নেই। কোন দলের প্রতি আনুগত্যও নেই তাদের। বরঞ্চ বর্তমান রাজনীতি ও রাজনীতিকদের নিয়ে আছে চরম অসন্তোষ। এরা কাওকে ক্ষমতায় বসাতে বা ক্ষমতা থেকে নামাতেও সমবেত হয়নি। এদেরকে কেউ জোর করে সমাবেশে আনে নি। টাকা দিয়ে আনে নি। সবাই নিজ নিজ চেতনা থেকেআদর্শ থেকেমাতৃভূমিকে মায়ের মতো ভালবাসে বলে এখানে ছুটে এসেছে। তাদের একটাই দাবিসকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা। তাদের জন্মের অনেক আগে সংঘটিত এই জাতির সবচেয়ে বড় অর্জনবড় অহংকার মুক্তিযুদ্ধে যারা বিরোধীতা করেছিল। যারা হত্যাধর্ষণ গণহত্যালুণ্ঠনঅগ্নি সংযোগের মতো মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছিল তাদের প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করা। আইনের যে দুর্বলতায় অপরাধী পার পেতে পারে তা সংশোধন করা। তারা রাজাকার আলবদরদের ফাঁসি দাবি করছে এবং সে সাথে এদের সহযোগীদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট করার আহবান জানাচ্ছি। গত মঙ্গলবার থেকে চলা এই আন্দোলনলেখাটি যখন লিখছি তখন অষ্টম দিন পূর্ণ করেছে। কিন্তু কোথাও কোন বিবাদ,মতবিরোধধাওয়া পাল্টা ধাওয়াস্লোগান পাল্টা স্লোগান বা কোন নেতা-নেত্রীর নামে স্লোগান দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে নি। এরা দোকানে খাবার খেয়ে পয়সা বা বিল না দিয়ে চলে আসে নি। এরা একটিও গাড়ি ভাঙেনি। ঢিল ছোঁড়েনি। লাঠি নিয়ে কাউকে আঘাত করেনি। পুলিশকে পেটায়নিজোর করে যানবাহন বন্ধ করেনি। এরা জামাত ও এর সহযোগীদের বয়কট করতে বলেছে। জামাতের আর্থিক ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্জন করতে বলেছে কিন্তু একবারও আক্রমণ করতে বলেনি। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ থেকে একটিও উস্কানীমূলক বাক্য উচ্চারিত হয়নি।

প্রায় দু’শ ঘণ্টা অবিরাম অবস্থান করার পরেও খাদ্যের প্যাকেট নিয়ে টানা হ্যাঁচড়া করেনি। এত লোকের সমাবেশ অথচ পরিবেশ দুঃসহ করে তোলেনি। এদের ভেতর নেতৃত্বের কোন সংকট নেই। কোন্দল নেইদল উপদল নেই। দু’টি চকলেট কেউ পেলে অপরটি বাড়িয়ে দিচ্ছে পাশের জনকে। এরা অবিরাম স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করছে চতুর্দিক অথচ মাইক নিয়ে কাড়াকাড়ি নেই। এসব গত আটদিন ঘটেনি কাল থেকে যদি ঘটে তবে বুঝতে হবে তা রাজাকার ও তার দোসরদের ষড়যন্ত্রের অংশ। এত নারীর অংশগ্রহণ অথচ কোথাও কোন নারীর প্রতি অসম্মান জানানোর রুচি বা স্পর্ধাও কারো হয়নি। এত পুরুষের ভেতর একজন নারী এতটুকুও অপমানিত হয়নি। যে দেশে ঘরের মধ্যে দরজা আটকেও নারীরা তাদের সম্ভ্রম বাঁচাতে পারে না সেখানে এই চিত্র অভাবিত। এমন কি গত কিছুদিন থেকে চলে আসা নারী ধর্ষণের ঘটনাও কমে গেছে দ্রুত। হিসাব করলে দেখা যাবে গত আট দিনে (যখন লেখাটি লিখছিসারাদেশে বিভিন্ন অপরাধের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর পেছনে কোন জাদুমন্ত্র কাজ করেনি। কাজ করেছে দেশপ্রেমমুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এই তরুণরা দেশকে ভালবাসে মায়ের মতো। কাজেই মায়ের বা মায়ের কোন কুসন্তানের অপমান এরা হতে দেবে না। আমার বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের মাধ্যমে তরুণদের যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা যায় তবে এরা কোন দিন জাতির সাথেদেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। টাকার বিনিময়ে নিজের বিবেককে বিক্রি করবে না। বর্তমান রাজনীতিকবুদ্ধিজীবীপেশাজীবীসহ সকল স্তরের সুবিধাভোগীআপোষকামীদের জন্যে বিশাল একটি শিক্ষা দিয়ে গেল গণজাগরণমঞ্চের লক্ষ লক্ষ তরুণরা।

আমি আর এখন হতাশ নই। হতবিহ্বল নই। কারণ তাদের হাতেই দিলাম আমার নির্ভরতার চাবি। কারণ বিগত কয়েক মাস ধরে জামাত-শিবিরের তাণ্ডব দেখতে দেখতে একটি সময়ে মনে হয়েছে আমরা কোথায় বাস করছি। এই ধ্বংস আর জিঘাংসা থেকে মুক্তি দেবে কে?

দু’দিন আগেও কে জানতোযাদেরকে ফেসবুক আক্রান্তঅসামাজিকস্বার্থপর ও আদর্শহীন বলে ভেবেছি সে তরুণরাই জাতির মুক্তির দূত হয়ে উঠবে। জামাত-শিবিরের লাঠিআগ্নেয়াস্ত্রপেট্রোল,দিয়াশলাই আর ধ্বংস ও মৃত্যুর হুঙ্কারের পরিবর্তে হাতে তুলে নেবে গিটারঝাঁঝালো স্লোগান আর জাগরণের গান। কে জানতো জামাত-শিবির-বিএনপির হিংসাত্মক কর্মসূচির বদলে এরা রচনা করবে ঐতিহাসিক এক অহিংস আন্দোলন।

গত শতাব্দিতে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলন ব্রিটিশদের মসনদ কাঁপিয়ে দিয়ে সারাবিশ্বে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিল। আজ বাংলাদেশের তরুণরা অনেক অনেক নজির সৃষ্টির সাথে সাথে শতাব্দির প্রথম ও বৃহৎ এক অহিংস আন্দোলনেরও সূচনা করল।

হায়একই দেশের সন্তানএকই জাতির সন্তান তবুও দু’দল তরুণের মধ্যে কতটা তফাৎ। বিশ্বে অহিংসা ও ভালবাসার বিপরীতে কোন ফ্যাসিবাদ জয়লাভ করেনি। বাংলাদেশেও করবে না। কারণ দেশের ষোলকোটি মানুষের নির্ভরতার চাবি এখন শাহবাগ চত্বর হয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব থেকে দেশের লক্ষ কোটি উদ্দিপ্ত তরুণের হাতে।


লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
email: qbadal@yahoo.com 

পোস্টসমূহ