পৃষ্ঠাসমূহ

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৩

'নষ্ট রাজনীতি-ভ্রষ্ট রাজনীতিক'

২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৩ খ্রি: ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২০ সাল ২৩ মহররম ১৪৩৫ হিজরি

- কামরুল হাসান বাদল
যেদিন থেকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির উদ্ভব সেদিন থেকে জবরদখল, সেদিন থেকেই রাজনীতির শুরু। অতএব রাজনীতি মানেই অপরের রাজ্য-সম্পদ আর ক্ষমতা দখলের চর্চা। অ্যারিস্টটল, কার্লমার্ক্স এঁরা রাজনীতিকে সভ্য-শোভন ও গণমানুষমুখী করে তোলার চিন্তা-ভাবনা করেছিরেন। রাজনীতিকে গণমানুষের মুক্তির কথা বলে অধিকারের কথা বলে, সাম্যের কথা বলে তা শিখিয়েছিল কার্ল মার্ক্স। গত শতকের ৮০ দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে বিপর্যয় নেমে আসে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে। রাজনীতি থেকে সুস্থ সভ্যতা ও মানবতাবোধ বিদায় নিয়েছে তখন থেকে। সমাজ-রাষ্ট্র-রাজনীতিকে প্রতিনিয়ত অমানবিক করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে পুঁজিবাদী বিশ্বের নয়া কৌশল। এজন্যে বিশ্বের দেশে দেশে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টিতেও ব্যাপৃত তারা। ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্ব মোড়ল। যে দেশটি প্রকৃত অর্থে কোনো দিন বিশ্বের কোনো সাধারণ মানুষ অর্থাৎ নির্যাতিত নিপীড়িত-বঞ্চিত জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। নিঃস্বার্থভাবে একটি দানা-পানি দিয়েও সাহায্য করেনি কোনো দেশ বা জাতিকে।

ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে আমাদের এ অঞ্চলে রাজনীতিক বেচাকেনা অর্থাৎ প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের ইতিহাসও নতুন নয়। রাজনীতিকরা বেচা-বিক্রি হয়েছেন অনেক আগে থেকেই। বেশি পেছনে না গিয়ে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের কথাই ধরি। যে যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কথাই ধরি। সেদিন মীরজাফর বিক্রি হয়েছিলেন বলেই বাংলার পতন হয়েছিল। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূত্রপাত হয়েছিল। সেদিনের যুদ্ধে মীরজাফর ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বিশ্বাসঘাতকতা না করলে উপমহাদেশের ইতিহাস অন্যভাবে লিখতে হতো হয়ত। অন্তত ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত হওয়ার গ্লানি আমাদের বহন করতে হতো না। পরে ভারতজুড়ে এমন হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মীর জাফর কাজী জাফরদের (গত শতকের মীরজাফর) কারণে ব্রিটিশরা ১৯০ বছর ভারত শাসন করে যেতে পেরেছিল।

ব্রিটিশ শাসনের শেষ দিকে। রাজনীতি তখনও জমিদার জোতদার নবাব শ্রেণীর দখলে। অভিজাতরাই তখন মুসলিম লীগ করতেন। অবিভক্ত বাংলায় তখন একটু একটু পরিবর্তনের হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। শেখ মুজিবুর রহমানের মতো কিছু তরুণ রাজনীতিকে গণ মানুষের করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। ভারতবর্ষ স্বাধীন হতে যাচ্ছে সে সময়ও রাজনীতিকরা কীভাবে বেচা-কেনা হতেন তার একটি চমৎকার বর্ণনা আছে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে। তা থেকে সামান্য উদ্ধৃতি দিচ্ছি। যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে তখন বাংলায় মুসলিম লীগ সরকারের পতন হয়েছে। অর্থাৎ পতন ঘটানো হয়েছে। ও সময়ের কথা, বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, এর পূর্বে আমার ধারণা ছিল না যে, এমএলএরা (নিম্ন সভার সদস্য) এইভাবে টাকা নিতে পারে। এরাই দেশের ও জনগণের প্রতিনিধি। আমার মনে আছে, আমাদের উপর ভার পড়ল কয়েকজন এমএলএকে তাদের নাম বলতে চাই না, কারণ অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। একজন এমএলএকে মুসলিম লীগ অফিসে আটকানো হলো। তিনি বারবার চেষ্টা করেন বাইরে যেতে। কিন্তু আমাদের জন্য পারছেন না। কিছু সময় পরে বললেন, “আমাকে বাইরে যেতে দিন, কোনো ভয় নেই, বিরোধীদল টাকা দিয়েছে। আমি যদি কিছু টাকা আনতে যাই আপনাদের ক্ষতি কি? ভোট আমি মুসলিম লীগ পক্ষেই দেব।” আশ্চর্য হয়ে চেয়ে রইলাম তাঁর দিকে। বৃদ্ধ লোক, সুন্দর চেহারা, লেখাপড়া কিছু জানেন, কেমন করে এই কথা বলতে পারলেন আমাদের কাছে? টাকা নেবেন একদল থেকে অন্য দলের সভ্য হয়ে, আবার টাকা এনে ভোটও দেবেন না। কতটা অধঃপতন হতে পারে আমাদের সমাজের। এই ভদ্রলোককে একবার রাস্তা থেকে ধরে আনা হয়েছিল। শুধু সুযোগ খুঁজছিলেন কেমন করে অন্য দলের কাছে যাবেন। এ রকম আরেক এমএলএকে আনতে বঙ্গবন্ধুকে রংপুর পাঠানো হল। যুদ্ধাবস্থায় প্রায় উপোস থেকে তিনি ওই জমিদার কাম এমএলএর বাড়ি পৌঁছানোর পরে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন না কিছু খাব কিনা। পথে খেয়েছি কিনা। বলতেন, এখনতো রাত তিনটা বাজে। বিছানার কি দরকার হবে? বললাম, দরকার নেই যে সময়টা আছে বসিয়েই কাটিয়ে দেব। ঘুমালে আর উঠতে পারব না। খুবই ক্লান্ত। একদিকে পেট টনটন করছে, অন্যদিকে অচেনা রংপুরের মশা। একদিন পরে তিনি এসেছিলেন (কলকাতায়) তাঁকে পাহারা দেওয়ার জন্য লোক রাখা হয়েছিল। তবু পেছনের দরজা দিয়ে এক ফাঁকে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন। খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে পাওয়া যায় নি। আমরা ছাত্র ছিলাম, দেশকে ভালোবাসতাম, দেশের জন্য কাজ করতাম। এই সকল জঘন্য নীচতা এই প্রথম দেখলাম। পরে যদিও অনেক দেখেছি। এই সমস্ত খান বাহাদুরদের দ্বারা পাকিস্তান আসবে, দেশ স্বাধীন হবে ইংরেজদের তাড়ানো যাবে। বিশ্বাস করতে কেন যেন কষ্ট হয়। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের (এম.এনএ, এম এলএ) শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। টাকার বিনিময়ে নিজদলের বিপক্ষে ভোট দিয়ে যেন ষড়যন্ত্র পাকাতে না পারেন সে লক্ষেই বঙ্গবন্ধু সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ সংযোজন করেন। এ আইনের কারণে বর্তমানে কোনো সংসদ সদস্য ফ্লোর ক্রস করতে পারে না, অর্থাৎ নিজদলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবে না সংসদে।

স্বাধীন বাংলাদেশে নেতা বেচাকেনার সংস্কৃতি চালু হলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির জনককে হত্যার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া তখন ইচ্ছা পোষণ করলেন রাজনীতি করবেন। দল গঠন করবেন। জড়ো করলেন শাহ আজিজদের মতো শীর্ষ রাজাকারদের। অন্যান্য দল থেকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য ভয় দেখিয়ে অর্থ দিয়ে অন্যদল থেকে নেতা ভাগিয়ে গঠন করলেন রাজনৈতিক দল। স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার,চীনাপন্থি কমিউনিস্ট, মুসলিম লীগার ও নীতি ভ্রষ্ট রাজনীতিক নিয়ে গঠিত হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। তৎকালে স্বাধীনতা ও আওয়ামীলীগ বিরোধী সবাই জড়ো হলেন জেনারেল জিয়ার পেছনে।

পরবর্তীতে জেনারেল এরশাদও তার গুরু জেনারেল জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। অন্যদল থেকে নেতা কিনে দল গঠন করেছেন। যুগে যুগে মীরজাফর থেকে কাজী জাফর, রায় বল্লভ থেকে মওদুদের মতো নেতার অভাব হয়নি রাতারাতি ভোল পাল্টাতে এবং অর্থ ও ক্ষমতার বিনিময়ে স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে।

আজ এরশাদের গৃহপালিত প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর এরশাদের বর্তমান অবস্থান দেখে বলেছেন, গত ১০০ বছরের মধ্যে এমন বিশ্বাসঘাতকতা তিনি দেখেননি। যে স্বৈরাচারের দাসত্ব করেছিলেন তিনি,সেবাদাসে পরিণত হয়ে তার শাসন শোষণকে দীর্ঘায়িত করেছিলেন তেমন তাঁবেদার কাজী জাফর ও মওদুদদের মুখে নীতিকথা, গণতন্ত্র ইত্যাদির কথা মানায় না। বরং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিকে নতুন করে কলুষিত করার অপরাধে দু’ জেনারেলের সাথে এ ধরনের রাজনীতিকদেরও বিচার হওয়া উচিত। আজ বিএনপির সাথে এরশাদ যে আচরণ করেছে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। বিএনপি সৃষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতির শিকার এখন তারা নিজেই। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই বলে যারা রাজনীতির সুবিধাবাদিতাকে জিইয়ে রেখে নিজেদের ক্ষমতা ও লাভের অংশীদার করে রাখতে চান বর্তমান রাজনীতিতে তো তাদেরই খেলা চলছে। রাজনীতিকদের জন্যে রাজনীতিকে সত্যি কঠিন করে গেছেন জেনারেল জিয়া। তাই দেশে আজ পরীক্ষিত, সৎ নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক নেই বললেই চলে। রাজনীতির নিয়ন্তা আজ পেশিশক্তি, কালোটাকার মালিক। যারা নিজেদের বিক্রি করার জন্যে কোরবানি পশুর মতো সেজে গুজে থাকেন। বিএনপি সৃষ্ট রাজনৈতিক কূটচালে নিজেরা পতিত হয়েছে। তাতে বিস্ময়ের কী আছে?

লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক 
email: qbadal@yahoo.com 

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৩

'নেই কাজ তো খই ভাজ'

২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৩ খ্রি: ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২০ সাল ১৬ মহররম ১৪৩৫ হিজরী

- কামরুল হাসান বাদল
প্রিয় পাঠক, জনগণ হিসেবে যখন আমাদের করার কিছুই নেই তখন এক কাজ করা যায়। বসে বসে ভাবা যায়। ‘কী হইলে কী হইত’ ধরনের। নিকট অতীতের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা দিয়েই শুরু করি। ধরুন সেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়ে যদি মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা বলতেন, যাক দেরিতে হলেও যখন আপনি নিজেই ফোন করেছেন, আপনার কথাই রাখলাম। হরতাল প্রত্যাহার করে নিলাম। আমি আপনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে আলোচনার জন্য আসছি। মাননীয় বিরোধীদল নেতা গণভবনে গেলেন এবং আলোচনার সূত্রপাত করলেন। বিরোধী দলীয় নেতা বললেন, যেহেতু আমি গেস্ট, আপনি হোস্ট। আপনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এনেছেন সেহেতু আমার কথাই আপনাকে আগে শুনতে হবে। বেগম জিয়া বললেন, আমার দাবি ছিল নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন। আপনি তা চান না। আপনি চান সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। ঠিক আছে, আমি এক পা পেছনে গেলাম। বাদ দিলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি। আপনার ফর্মূলাতেই নির্বাচনে যাব তবে এবার মাত্র দুটো দাবি মেনে নিন। প্রথম দাবি সংসদে আসন হিসেবে নয়, ভোটের হিসেবে নির্বাচনকালীন সরকারের ১০ জন মন্ত্রীর মধ্যে আমাদের পাঁচ, আপনাদের পাঁচ। এই সরকার প্রধান হিসেবে আপনাকে (শেখ হাসিনাকে) মেনে নেব না। অন্য কাউকে নির্বাচিত করতে হবে যার প্রতি আমাদেরও আস্থা আছে। আওয়ামী লীগ প্রধান বলেছিলেন, যেসব মন্ত্রণালয়চান আপনাদের তা দেওয়া হবে। সে সুযোগও খালেদা জিয়া কাজে লাগাতে পারতেন। বলতে পারতেন, স্বরাস্ট্র, তথ্যও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের মতো নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন কয়েকটি মন্ত্রণালয় আমাদের দিতে হবে। এরপরের ঘটনা কী হতো? আওয়ামী লীগের দফা রফা হতো। তখন আওয়ামী লীগেরই দায়িত্ব হতো বিরোধী দলের দাবি মেনে নেওয়া নতুবা পাল্টা কোনো অজুহাত তৈরি করা। কিন্তু তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোনে সরাসরি ধমকিয়ে গেছেন পুরো ৩৭ মিনিট। পরে অবশ্য দেশবাসী তা প্রত্যক্ষ করেছে। টেলিফোনের বিষয়টি নিয়ে ছোট্ট করে একটু বলতে চাই। এই টেলিফোন সংলাপের পরে আওয়ামী লীগ (বিরোধী) শিবিরে দুটো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। এক পক্ষ বলেছেন, আমাদের নেত্রী আচ্ছা ধোলাই দিয়েছেন হাসিনাকে। ৩৭ মিনিটতো কোনো কথাই বলতে দেন নাই। দুই পয়সারও পাত্তা দেন নাই আমাদের নেত্রী হাসিনাকে। অন্যপক্ষ বলছে এটি সরকারের একটি পাতানো ফাঁদ। শেখ হাসিনা জানতেন যে এই কথোপকথন রেকর্ড করা হচ্ছে, অতএব তিনি সংযত হয়ে কথা বলছেন। এর উত্তরে আমি পূর্বেই লিখেছি। টেলিফোনে আড়িপাতা হবে না বা রেকর্ড হয়ে তা জনসম্মুখে আসবে না এমন ভাবনা যাদের তারা অদূরদর্শী ও অনাধুনিক। এটিও আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপির রাজনৈতিক পরাজয়। আর একজন প্রধানমন্ত্রী নয়, সাধারণ একজন আমন্ত্রণকারীর কথাও যে ধৈর্য ধরে শুনতে হয়, ভদ্রভাবে জবাব দিতে হয় তা শিক্ষিত মানুষ মাত্রই জানেন। অসৌজন্যতা, অভব্যতা বিজয়ী হওয়ার পন্থা নয়। এভাবে যারা জিততে চান তারা মূলত গণতন্ত্রের বন্ধু নন। যাক আমরা জনগণ ভাবলেতো আর হবে না। নেতানেত্রীকে ভাবতে হবে। তাঁরা যে সবসময় আমাদের কথা মাথায় রেখে কাজ করেন তা তো নয়। তাঁরা চলবেন তাঁদের মতো আমরা শুধু পেছন থেকে জিন্দাবাদ োগান দিয়ে যাব। একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ ভাবতেই পারেন সেদিন বেগম খালেদা জিয়া সামান্য একটু নমনীয় হলে আজকের দিনগুলো অন্য ধরনের হতো। কিন্তু তা তিনি হননি। হননি কারণ তিনি পরাজিত (!) হতে চান না। অর্থাৎ নির্বাচনের আগেই তিনি জিততে চান। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে ও পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন। ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া সরকারের পছন্দের বিচারপতি এম আর হাসানের অধীনে নির্বাচনে যাননি শেখ হাসিনা। কাজেই তিনিও শেখ হাসিনাকে দিয়ে এসব কাজ করিয়ে নিতে চান। এক-তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন। দুই. হাসিনার পদত্যাগ ও এই সরকারের মনোনীত বা পছন্দের কারও অধীনে নির্বাচনে না যাওয়া। নিজদলীয় সংসদ সদস্যদের দ্বারা গঠিত সরকারের চেয়ে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের ওপর বেগম জিয়ার আস্থা বেশি কেন বুঝতে পারছি না। আর বর্তমানে যেভাবে দ্রুত রাজনৈতিক মেরুকরণ হতে যাচ্ছে তার ভবিষ্যত কী হবে তা-ও আমি বুঝতে পারছি না।

তবে এতকিছু পরেও আমি বাংলাদেশের রাজনীতিকদের বড় একটা দোষ দিই না। কারণ জনগণ চায় বলেই এমন নেতৃত্ব দেশে টিকে আছে। এমন সব ব্যক্তি নেতৃত্ব দিচ্ছেন বা নেতারা সম্মান পাচ্ছেন তা দেখলে শিহরিত হতে হয়। একটি আপ্তবাক্য মনে পড়ে আমার। চোরের সর্দার চোর হয়,ডাকাতের সর্দার ডাকাত। আউলিয়ার সর্দার হয় আউলিয়া। দেশের জনগণ যদি সৎ নেতৃত্ব, যোগ্য নেতৃত্ব চাইতো তবে রাজনীতিতে সৎ মানুষদের কদর বাড়তো।

রাজনীতি পরিশুদ্ধ হতো। রাজনীতি থাকতো সৎ মানুষের হাতে। পেশি শক্তি, কালো টাকার মালিক আর ফার্মের রাজনীতিকদের আখড়ায় পরিণত হত না রাজনৈতিক দলগুলো। অর্থাৎ আমি বলতে চাইছি ব্যক্তি সৎ হলে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সৎ হতে বাধ্য। আমাদের বুদ্ধিজীবী শ্রেণি, পেশাজীবী সংগঠন থেকে শুরু করে প্রতি স্তরেই নোংরা রাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যন্ত আজ দলদাসে পরিণত হয়েছেন। জাতির এই সংকটকালে একটি অভিভাবক শ্রেণি নেই দেশে যাঁদের কথা বা পরামর্শে জাতি একটি দিক নির্দেশনা পেতে পারেন। অনেকেতো ভয়ে আমাদের গৌরবের,অহংকারের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, ত্রিশ লক্ষ শহীদ নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেন না। পাছে তিনি আওয়ামী বুদ্ধিজীবী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যান। স্বাধীনতার সমস্ত সুফল ভোগ করেও যারা স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আশ্চর্য নীরবতা পালন করেন তাদের সততা ও পৌরুষ নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন থেকে যায়। এখন প্রতিদিন আমাদের নিত্য নতুন চমকের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখনই বলা যাচ্ছে না আগামী দুঘণ্টা পরে দেশে কী ঘটতে পারে। এমন একটি অনিশ্চিত পরিবেশে দেশে যে কোনো কিছু ঘটে যাওয়া সম্ভব। সেটি রাষ্ট্রীয় হোক অথবা সামাজিক হোক। সমাজ ও রাষ্ট্রে এমন অনেক দুষ্টচক্র থাকে যারা এ ধরনের পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে। রাষ্ট্রপতিকে সংলাপের উদ্যোগ নিতে বলে বেগম খালেদা জিয়া নতুন কোনো আশার আলো দেখাতে পারেন নি। তারা বঙ্গভবনে গিয়ে তাঁদের পুরনো দাবি-দাওয়াগুলোই তুলে ধরেছেন শুধু। বাস্তবে যা সম্ভব হবে না বলেই মনে হয়। এই লেখা প্রকাশিত হওয়ার আগেই যদি সংসদ ভেঙে যায় তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু সুরাহা না করে, তবে বর্তমান পদ্ধতি ও নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই দেশ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে। সে নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও হবে। অর্থাৎ নির্বাচন একটি হতে যাচ্ছে দেশে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি যদি মনে করে তাদের ছাড়া নির্বাচন করে সরকারকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের ফলভোগ করতে হবে সেটিও হয়ত ভুল চিন্তা বিএনপির। কারণ ১৯৯৬ সালের বাস্তবতা আর ২০১৩ সালের বাস্তবতা এক নয়, বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিও অনেক পাল্টে গেছে ইতোমধ্যে আর সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপিযে আওয়ামী লীগের মত সমর্থ নয় তা পরীক্ষিত। আর জামায়াতের অর্থ নিয়ে ভাড়াটে লোকদের দিয়ে সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টাও বেশিদিন চালানো যাবে বলে মনে হয় না। কারণ এই হত্যা-ধ্বংস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই জনমত তৈরি হতে শুরু করেছে। সে সাথে সাধারণ মানুষ মনে করছে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য তাকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করা উচিত। এটি শুধু দেশের জনগণের ভাষ্য নয়, বিএনপির প্রতি সমর্থন আছে এমন বন্ধুরাষ্ট্রগুলোও চায় বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করুক। যারা বিএনপি নেতৃত্বকে বোঝাতে চায় বিএনপি জামায়াতকে ত্যাগ করলে ভোট ব্যাংকে ঘাটতি পড়বে তারা দলকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। বাস্তবে জামায়াতের ৩ শতাংশ ভোট বিএনপি না পেলেও অন্যভাবে এরচেয়ে কয়েক শতাংশ ভোট বরং বেশিই পাবে।

খই ভাজতে ভাজতে রাজনীতি নিয়ে অন্তত এটুকু বলতে পারি যে, বাংলাদেশ সামাজিক,অর্থনৈতিক ক্ষেত্র বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে ভাবে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে তার সাথে যদি রাজনীতিকরা নিজেদের সামিল করতে না পারেন তবে দেশের সৎ, পরিশ্রমী ও ভালো মানুষরা দ্রুত রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়বেন। কারণ মানুষ তাদের শ্রমে-ঘামে গড়া এই বিশাল অর্থনৈতিক ভিত দুর্নীতিবাজ ক্ষমতালোভী ও সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেবে না।

লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক 
email: qbadal@yahoo.com 

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৩

'আর কত হত্যা ও লাশের রাজনীতি'


১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৩ খ্রি: ৩০ কার্তিক ১৪২০ সাল ৯ মহররম ১৪৩৫ হিজরী

-কামরুল হাসান বাদল
মনিরের জন্যে একটি শোকগাঁথা লিখব বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু ভাবনাগুলো স্থির করতে পারছিলাম না। পত্রিকায় মনিরের অঙ্গার হওয়া ছবিটি দেখেছি। অদ্ভুত একটি ছবি। শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে। হাঁটুজোড়া বুকের কাছে এনে মনির বসে আছে হতভম্বের মতো। তার সারা শরীর ঝলসে গেছে। মনির বুঝতে পারছে না তার কী হয়েছে। সে তো তার বাবার কাভার্ড ভ্যানে ঘুমিয়ে পড়েছিল। গাড়ি চালাচ্ছিল তার বাবা। মনির ভাবছে সে কি কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছে। কিছুই তো জানে না সে, বাবার সাথে ঢাকা বেড়াতে বেরিয়েছিল সে। ঘুরতে ঘুরতে গাজীপুর পৌঁছেছিল বাবার সাথে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত বোঝে না মনির। হরতাল বোঝে না। পিকেটিং বোঝে না। বোঝে না এখন পিকেটিংয়ের নামে একদল হায়েনা নেমে আসে জনপদে। নিষ্ঠুর, অতি নির্মমভাবে ওরা ধ্বংসলীলা চালায়। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে দেয়। নিরীহ, নিরপরাধ,নারী-শিশু, বৃদ্ধ-প্রতিবন্ধী কেউ-ই রেহাই পাচ্ছে না এই হায়েনাদের হাত থেকে। এই হায়েনারা একাত্তরের হায়েনাদের চেয়েও ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর। এরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হরতাল আহবান করে। আর সে হরতালের একদিন আগে থেকে শুরু করে এমন প্রাণঘাতি নিষ্ঠুর নির্মম পিকেটিংয়ের নামে বর্বরতা।

দুঃখিত আমি মনিরের জন্য কোনো শোকগাঁথা রচনা করতে পারিনি। বরং মনিরের অগ্নিদগ্ধ হয়ে হতভম্বের মতো বসে থাকার দৃশ্যটি মনে আসতেই সব কিছু গুলিয়ে ফেলেছি। চিন্তা এলোমেলো হয়ে যায়। রক্তচাপ বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে এমন ঘটনা, বাড়তে থাকে আগুনে পোড়া মানুষের সংখ্যা, বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যা, বাড়তে থাকে বিলাপ, বাড়তে থাকে স্বজনের আহাজারী,বাড়তে থাকে রক্তচাপ, তারপর হাসপাতাল-ক্লিনিক, পূর্ণ বিশ্রাম আর এই নিষ্ঠুর ও বিভৎস চিত্র ও সংবাদ দেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা। তারপরে আমি বিশ্রামে শুয়ে কাটাই। ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমাই। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করাই। শুয়ে থাকি, ঘুমিয়ে থাকি- কিন্তু মস্তিষ্কের নিউরনে নিউরনে মনির,অবচেতন মনে মনিরের অর্ধদগ্ধ, হতবিহ্বল বসে থাকার, বুক ভেঙে যাওয়া ভঙ্গির ছবিটি ভেঙে দেয় আমার স্বস্তি। অবস করে দিচ্ছে আমার অনুভূতি। আমি দেখতে থাকি, শুনতে থাকি আর্তনাদ, মানুষ পুড়ে যাচ্ছে- তাদের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। তারা মরে যাচ্ছে। সে ভয়াবহ আগুন থেকে,ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে একজন-দুজন এভাবে শত শত অসহায় মানুষের বিলাপ আর আর্তনাদ আমি শুনতে পাই। আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমার বিশ্রাম টুটে যায়। আমি এলোমেলো পায়চারি করি মধ্যরাতে। একলা দুপুরে- বিষন্ন বিকেলে- একাকী সন্ধ্যায়। আমি নিজের সামনে দাঁড়াতে পারি না অগ্নিদগ্ধ- নিহত শিশু মনির ঔদ্ধত্যের ভঙ্গিমায় বলে, আমাকে পোড়ালে কেন? তোমাদের আন্দোলনের কী ক্ষতি করেছিলাম। আমিতো বাবার সাথে ঢাকা শহর দেখতে বেরিয়েছিলাম। মনিরকে বলি, মনির শোন, তোমার জন্যে এমন একটি শোকগাঁথা লিখব,যা পড়ে কেউ কোনোদিন আর শিশুহত্যা করবে না এ দেশে। মানুষ মরবে না বিনাদোষে। একাত্তরের ঘাতকদের বাঁচাতে নব্য ঘাতকরা প্রাণ নিতে পারবে কোনো নাগরিকের।

কিন্তু না কিছুই হয় না। মনিরদের জন্যে শোকগাঁথা রচিত হয় না। মৃত্যুর মিছিল থেমে থাকে না। বরং এ মিছিল দীর্ঘ হয়। আরও শিশু মনিরের মতো দগ্ধ হয়। পুড়ে যায়, মরে যায়। একসাথে ১২ জন যাত্রীর গায়ে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। তারা অগ্নিদগ্ধ হয়। হাসপাতালে যায়। হাসপাতালের বাতাস আরও ভারী হয়ে ওঠে।

এই হত্যা ও লাশের রাজনীতি বন্ধ হবে কবে। গত ২২ বছরে এ ধরণের রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণহাণি ঘটেছে আড়াই হাজার। ২০০১-০৬ বিএনপি শাসনামলে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০৮। ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত ৫৪৯ জন। শুধু গত ১০ মাসে নিহতের সংখ্যা ৩০৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ২০০১ সালে ৫০০ জন। একদিনের হরতালে তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষতি ২০০ কোটি। পরিবহন খাতে ২৫০ কোটি আর ক্ষুদ্র ব্যবসায় ৬০০ কোটি টাকা। তারপরেও হরতাল হতে পারে। যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় হরতাল কর্মসূচি বিদ্যমান। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। দ্বিমত নেই। যে দল যত পারে হরতাল ডাকুক। জনগণ যদি সে দলের দাবিকে যৌক্তিক মনে করে তবে তারা হরতালে সংহতি প্রকাশ করবে। নিজেরাও হরতাল পালন করবে। অন্যদিকে সমর্থন না দিলে বা সহমত পোষণ না করলে তারও অধিকার আছে হরতাল পালন না করার। নিজের কাজ করার। তারপরেও অতীতে আমরা পিকেটিং করতে দেখেছি। খুব বেশি হলে টায়ার পাংচার করে দেওয়া। চালকদের কান ধরে ওঠ-বস করা। নেতানেত্রীরা রাস্তায় শুয়ে বসে অবরোধ ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা। এমন সহিংস, নির্মম পিকেটিং আগে কখনও দেখিনি। গত ১৫/১৬ বছর থেকে পিকেটিং ক্রমশ সহিংস হয়ে উঠছিল। তবে গত ডিসেম্বর থেকে বিশেষ করে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই জামায়াত-শিবির এমন সহিংস হয়ে ওঠে। জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর আর নৃশংস উৎসবে মেতে ওঠে ওরা। এমন নিষ্ঠুর আচরণ একটি স্বাধীন দেশে হতে পারে, তা ভাবতেও কুক্তিত হই। রাষ্ট্রীয় সম্পদ, সাধারণ মানুষের গাড়ি-বাড়ি-দোকান প্রতিষ্ঠান কিছুই বাদ যাচ্ছে না এসব আন্দোলনকারী নামের হায়েনাদের কাছ থেকে।

বিগত দিনে বিএনপি’র রাজনীতি আমরা দেখেছি। তাদের আন্দোলন-সংগ্রামও প্রত্যক্ষ করেছি। কিন্তু এমন নির্মম হতে কখনও তাদের দেখিনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার চেয়ে কিছু কিছু বিএনপি নেতাকে অনেক বেশি সহনশীল ও সংযম বলে মনে হয়েছে। অনেক যুব ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদেরও চিনি, যাদের কখনো এমন নিষ্ঠুর ও নির্মম বলে মনে হয়নি। মনে হয় না বিএনপি বা তার সহযোগী কোনো সংগঠনের কর্মীরা কোনো সংবাদমাধ্যম কর্মীর ওপর আঘাত হানতে পারে। তাদের গায়ে হাত তুলতে পারে। নিষ্ঠুর-নির্মমভাবে নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে। অথচ অন্তত গত একবছর থেকে আমরা তেমন আচরণই দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কাছ থেকে। তাই বিস্ময় জাগে এই আন্দোলনের চাবি বা নিয়ন্ত্রণ বিএনপি’র হাতে আছে না কি হাজার হাজার কোটি টাকার খেলায় অন্য কেউ তা নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে যারাই করুক আমার ধারণা এতে আসলে বিরোধীদলের খুব বেশি লাভ হবে না। মানুষ এমন নিষ্ঠুর-নির্মম কর্মকাণ্ড সমর্থন করবে না। এখনতো মিডিয়াকর্মীদের ফোন করে বা এসএমএস এর মাধ্যমে গাড়ি পোড়ানোর দৃশ্য তুলে মিডিয়ায় প্রচার করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছেন। এই চালাকির তথ্যও এখন মানুষ জেনে গেছে। ওপথও এখন বন্ধ হওয়ার পথে। গণপ্রতিরোধ সৃষ্টি হবে এমন গণহত্যার বিরুদ্ধেই। এক একজন মুনিরের হত্যার দায় তাদের নিতেই হবে। বিচার তাদের হতেই হবে।

দেশের রাজনীতি থেকে এমন সহিংস কর্মসূচিকে চিরতরে দূর করতে হবে।

লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক 
email: qbadal@yahoo.com 

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৩

'বাংলাদেশ! পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়'


৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৩ খ্রি: ২৩ কার্তিক ১৪২০ সাল ২ মহররম ১৪৩৫ হিজরী

-কামরুল হাসান বাদল
এক। ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন সারা বিশ্বের মুরুব্বি। বলতে গেলে তার ইচ্ছেতেই পরিচালিত হচ্ছে বিশ্ব। অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তার করেই ক্ষান্ত নয় দেশটি, বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও সেসব দেশের নেতারা কার সাথে কী আলাপ করছেন তা-ও আড়ি পেতে শোনার ব্যবস্থা করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসন। দীর্ঘদিনের মিত্রদের সাথে তাদের এমন শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ ক্রমশ প্রকাশ পাচ্ছে আর বিশ্বের বিবেকবান মানুষগুলো স্তম্ভিত হচ্ছে। যাক সে কথা- যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও যখন কালো মানুষদের কোনো ভোটাধিকার এমন কি নাগরিক অধিকারও ছিল না সে সময়েও আমাদের ভূখণ্ডে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং সে নির্বাচনে নারী পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভোটার ভোট দিয়েছে। তাছাড়া মার্কিনীরা যখন জাহাজে করে আফ্রিকার সহজ-সরল কালো মানুষদের তাদের মুল্লুকে এনে ক্রীতদাস হিসেবে কেনা-বেচা করতো তারও বহু আগে এই উপমহাদেশের এক প্রখ্যাত কবি উচ্চারণ করেছিলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’। মার্কিনীদের ইতিহাস হচ্ছে অস্ত্র ও যুদ্ধের ইতিহাস। পররাষ্ট্র দখল ও ভোগ করার ইতিহাস। আর বাংলার ইতিহাস হচ্ছে শান্তি ও সৌহার্দ্যের ইতিহাস। কারণ বাঙালির দ্বারা আজ পর্যন্ত কোনো জাতি ও দেশ আক্রান্ত হয় নি, লুণ্ঠিত হয় নি। কাজেই শান্তিপ্রিয় ও সভ্য জাতি বলতে গেলে মার্কিনীদের আগে বাঙালির নাম উচ্চারিত হওয়া উচিত।

দুই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৯৭১’র ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের প্রাক্কালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’। এই ঘটনার প্রায় চল্লিশ বছর পর এই দেশের একজন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে যখন ‘রাবিশ’ বলেছিলেন সেদিন গর্বে আমার বুক ভরে গিয়েছিল। কোন সাহসে বাংলাদেশের একজন অর্থমন্ত্রী একথা বলার সাহস রাখেন এবং কিসের জোরে এদেশের প্রধানমন্ত্রী মার্কিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারেন সে কথাই বলার চেষ্টা করছি এখন।

তিন। কার্তিকের মঙ্গা এখন বাংলাদেশের জন্য শুধুই অতীত। কৃষকের আন্তরিক পরিশ্রম ও সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সেসব দুঃসহ কাল আর ফিরে আসবে না বলেই মনে হয়। প্রতিবছর আশ্বিন-কার্তিক মাসে আমন ধান ঘরে তোলার আগে আগে সারা দেশে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় দেখা দিত মঙ্গা বা দুর্ভিক্ষ। লাখ লাখ মানুষ খাদ্যের অভাবে কষ্ট পেতো। শুধু আশ্বিন-কার্তিক নয়। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো।

গত শতকের ৭০ দশক। আমাদের স্বাধীনতার আগে পরে এদেশের লোকসংখ্যা ছিল ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি। এর ৪২ বছর পরে জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, পাশাপাশি আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। অথচ দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিশেষ করে গত তিন বছরে এক কেজি চালও আমদানি করতে হয় নি সরকারকে। বরং সুগন্ধি চাল ও ভুট্টা রফতানি করছে বাংলাদেশ। প্রিয় পাঠক এ হিসেব আমার মন গড়া নয়। গত অক্টোবরে বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিশ্বের ক্ষুধা সূচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। মাত্র এক বছরেই এই সূচকে ১১ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। আর এভাবেই প্রধান খাদ্য পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ। হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনের দিক থেকেও অধিকাংশ দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। একই জমিতে একাধিক ফসল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের জন্যে পথিকৃৎ। বিশ্বের প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, ভিয়েতনাম, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম ও মিসরই রয়েছে বাংলাদেশের ওপর। আর হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনের হিসেব ধরলে বাংলাদেশের ওপরে আছে মাত্র ভিয়েতনাম ও চীন।

চার। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিউবায় চট রফতানি করার অপরাধে ১৯৭৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগর থেকে খাদ্যভর্তি জাহাজ ফিরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করেছিল। আর সে দুর্ভিক্ষের কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সরকারকে সবচেয়ে বড় বিব্রতকর ও অপমানজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। ঘরে চাল থাকলে তো শাক পাতা কুড়িয়েও ভাত খাওয়া যায়। এই বাংলাদেশ এখন মার্কিনীদের রাবিশ বলতেই পারে।

পাঁচ। এ-তো গেল শুধু কৃষিখাত। গত ২ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে একটি জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে ‘জীবনযাপনের জন্য ভারতের চেয়ে ভালো বাংলাদেশ’। এটি নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের উদ্ধৃতি নয়। তিনি তো এ বিষয়ে অনেক আগেই তাঁর মতামত ও পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান জরিপটি চালিয়েছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক লেগাটাম ইনস্টিটিউট। লেগাটাম প্রসপারিটি ইনডেক্স শীর্ষক জরিপের প্রতিবেদনে বসবাসের উপযোগিতার দিক দিয়ে বিশ্বের ১৪২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৩তম। ভারতের অবস্থান আরো তিন ধাপ পিছিয়ে ১০৬তম। এই জরিপে বাংলাদেশ সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে নিত্য দিনের জীবন উপভোগের জন্য ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ ঢের ভালো এবং ভবিষ্যতে আরো সুন্দর জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে।

ছয়। তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। কয়েক কোটি মানুষ এখন এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দশম স্থানে ছিল এশিয়ায় দু’বছর আগে। দারিদ্র্যের সংখ্যা চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। কমেছে শিশু মৃত্যু ও প্রসূতি মায়ের মৃত্যুহার। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। কমেছে নিরক্ষরতার হার। এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর হাতে কয়েক কোটি নতুন বই তুলে দেওয়া হয় বছরের প্রথম দিনেই। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ডলারেরও বেশি। বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল দশটি নগরীর মধ্যে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম একটি।

মুসলিম প্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখানে গণতন্ত্র বিদ্যমান। (সকল সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েই)এখানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, স্পিকার নারী। এছাড়া বিচারপতি,ডিসি, এসপি, সশস্ত্র বাহিনীসহ সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সাত। বাংলাদেশে এত যে অগ্রগতি তার পেছনে এদেশের সাধারণ মানুষের ভূমিকা যেমন তেমনি ভূমিকা আছে রাজনীতিকদেরও। তবে সবচেয়ে বড় অবদান বাংলার কৃষকদের। যারা রাতদিন পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। অবদান আছে শ্রমিক বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত নারী শ্রমিকরা, যারা কম বেতনে মানবেতরভাবে বছরের পর বছর রফতানির চাকা সচল রেখেছেন। অবদান আছে প্রবাসী ভাইদের, যারা বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করেও দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের রিজার্ভকে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে এক্ষেত্রে রাজনীতিকদের যে অবদান একদম নেই তাই বা বলি কী করে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সময়মত সার ও কীটনাশক এবং সেচের জন্যে বিদ্যুতের সরবরাহ না দিলে উৎপাদন তো ব্যাহত হতো। গত তিন বছরে যে, এক কেজি চালও আমদানি করতে হয় নি সেখানে কি বর্তমান সরকার ও তার কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর একটুও অবদান নেই। নিশ্চয়ই আছে। রাজনীতিকদেরও অবদান আছে। তাদের অবদান আরো উজ্জ্বল হবে যদি তারা বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, কৃষি, শিল্প, তথা অর্থনৈতিক এই অগ্রযাত্রায় তাদের রাজনীতিকেও জড়িত করেন। তারা যদি রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল একটি রাষ্ট্র উপহার দিতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের এই সাধারণ মানুষ তথা অশিক্ষিত কৃষক- শ্রমিকরা একটি উন্নত বাংলাদেশ উপহার দিতে পারত। খুব বেশি নয় আগামী দশ থেকে পনেরো বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ একটি মধ্য আয়ের দেশে এমন কি ইউরোপের কয়েকটি দেশকেও ছাড়িয়ে যেতে পারত। আমাদের রাজনীতিকরা কি বাংলাদেশের এমন অগ্রযাত্রায় নিজেদের শামিল করবেন? নাকি হরতাল- অবরোধ, নৈরাজ্য, ধ্বংস, হত্যার উৎসব অব্যাহত রেখে দেশকে চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেবেন। দয়া করে শান্তিপ্রিয় বাঙালিকে মারদাঙা জাতিতে পরিণত করবেন না। আজ যখন বর্তমান বিরোধী জোটের নির্মম-নৃশংস হরতালের বিরুদ্ধে বলি তখন কেউ কেউ আওয়ামী লীগের বিরোধী দল থাকাকালীন হরতাল নৈরাজ্যের প্রসঙ্গ তোলেন। আমি বলি এমন পাল্টাপাল্টি জেদ না করে এমন কর্মসূচিকে এখনই ‘না’ বলুন। আর প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলকে প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য করুন এমন নৈরাজ্যমূলক ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি কোনো দল ভবিষ্যতেও দেবে না।

এই দাবিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় না। তথাকথিত সুশীল শ্রেণি যারা রাতদিন শুধু তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার দাবি তুলে মুখে ফেনা আনছেন তাদের সবিনয়ে বলি, ’৯১ থেকে এ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় নির্বাচনের ফলাফল তো পরাজিত কোনো দলই মেনে নেয় নি। শুধু তাই নয় তারা সংসদেও উপস্থিত থাকে নি। সংসদ কার্যকর হয় নি। বরং বছরের পর বছর রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে সম্পদ আর জীবনহানি ঘটিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় ফেরার আগে এই বিষয়গুলোর মীমাংসা হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের যে অগ্রগতির কথা তুলে ধরলাম এর পেছনে যাদের ন্যূনতম ভূমিকা নেই সে শক্তির কোনো দাবির প্রতি সমর্থন জানানোরও কোনো প্রয়োজন নেই। এদেশ পরিশ্রমী ও মুক্তিকামী মানুষের। পরজীবীদের নয়।

লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক email: qbadal@yahoo.com Google+

পোস্টসমূহ