দৈনিক আজাদী উপ-সম্পাদকীয় কাল আজ কাল
৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১২ খ্রি. ২৪ কার্তিক ১৪১৯ সাল ২২ জিলহজ ১৪৩৩ হিজরি
কামরুল হাসান বাদল
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
email: qbadal@yahoo.com
৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১২ খ্রি. ২৪ কার্তিক ১৪১৯ সাল ২২ জিলহজ ১৪৩৩ হিজরি
কামরুল হাসান বাদল
গত কয়েকদিন ধরে বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফর
নিয়ে সারাদেশে আলোচনা ছিল তুঙ্গে। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে সংবাদ
মাধ্যম সবখানেই আলোচনা, তর্ক
ও যুক্তি পাল্টা যুক্তির বিষয়ে পরিণত হয়েছিল সফরটি। এর অবশ্য কারণও আছে।
বিএনপি তথা জাতীয়তাবাদী দলের প্রায় সাড়ে তিন দশকের ইতিহাসে মৌলিক নীতি
পরিবর্তনের মত কথা বা সিদ্ধান্ত (আগে) শোনা যায় নি। এক আধটু রাজনীতির খবরও যারা রাখেন তারা জানেন যে, ভারত বিরোধীতার স্লোগান দিয়ে, নীতি
নিয়ে এবং জনগণের মাঝে ভারতবিরোধী মনোভাব জাগিয়ে দিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক দল
হিসেবে জন্ম নিয়েছিল। যে কারণে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, চৈনিক বিপ্লবী (এঁরাও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এক প্রকার) এবং মুসলিম লীগ ঘরানার রাজনীতিক, যাঁরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে কোন কারণে ভারতকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত ছিলেন, প্রথম
থেকেই বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠা প্রকৃতপক্ষে এদেশের
স্বাধীনতা বিরোধীদের ধড়ে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছিল। এই দলকে অবলম্বন করেই দেশে
রাজাকার আলবদর শান্তি কমিটিসহ স্বাধীনতাবিরোধীরা সংগঠিত, পুনর্বাসিত হওয়া ও পরবর্তীতে স্বাধীন দেশের ক্ষমতা ভোগের সুযোগ পেয়েছিল।
এই দলটির দ্বারাই মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ভারত যেহেতু মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী অন্যতম দেশ
সেহেতু অপছন্দ বা গালাগালি বা বিরোধীতার বিষয়ে পরিণত হয়েছে ভারত। এই বেগম
জিয়া, তাঁর দলের অন্যান্য নেতা, কর্মী সমর্থক ও তাঁর জোটের শরীকরা বরাবরই বলে এসেছেন আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে কাফের হয়ে যাবে, ঈমান চলে যাবে, বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে। মসজিদে নামাজের পরিবর্তে পূজা হবে, আজানের
পরিবর্তে উলুধ্বনি শোনা যাবে ইত্যাদি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার শান্তি
বাহিনীর সাথে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সম্পাদনের আগে পরে খালেদা জিয়া স্বয়ং
বলেছিলেন, এই
চুক্তি হলে ফেনী পর্যন্ত ভারতের অংশ হয়ে যাবে। শুধু তাই নয় দশ ট্রাক
অস্ত্র উদ্ধারের পরে দেশে বিদেশে জানাজানি হয়ে গেল তৎকালীন বিএনপি জামাত
জোট সরকার কীভাবে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করে
আসতো। সে সময় এই অস্ত্র সরবরাহের পক্ষে বলতে গিয়ে অনেক বিএনপি নেতা ও তাদের
সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা বলার চেষ্টা করেছেন যে, ওরা বিচ্ছিন্নতাবাদী নয়, তারা স্বাধীনতাকামী। আমরা (তাঁদের ভাষায়) যেহেতু
যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছি সেহেতু অন্য স্বাধীনতাকামীদের সাহায্য করা আমাদের
দায়িত্ব। তৎকালীন পত্র পত্রিকা খুঁজলে এর স্বপক্ষে প্রমাণও পাওয়া যাবে।
ভারত বিরোধীতায় তিনি বা তাঁর দলের এই যখন
অবস্থান তখন তিনি বা তাঁর দলের হঠাৎ ভারতনীতির পরিবর্তনে হতচকিত দেশের
সচেতন মহল। এতদিনের ভারতবিদ্বেষ ভুলে খালেদা জিয়া ভারতে শীর্য পর্যায়ে
অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী
ও বিরোধী দলীয় নেতার সাথে সাক্ষাৎ করে অতীত ভুলে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর
কথা বলেছেন। ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের মাটি ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের
ব্যবহারের সুযোগ না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া অন্য যা সব বলেছেন তা
মোট কথায় বলতে গেলে তা ভারতের কাছে এক প্রকার দাসখত লিখে দেয়ার মত করেছেন।
এ নিয়ে তাঁর দলের নেতারা বিশেষ করে মওদুদ আহমেদদের মত ক্ষমতালোভীরা রীতিমত
ক্ষমতার সিংহাসনে বসার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন, আওয়ামী লীগকে শূন্য হওয়ার আগে অন্তত বিরোধী দল হিসেবে অস্তিত্ব বজায় রাখার আহবান জানিয়েছেন।
ভারতের এই সফরকে অত্যন্ত সফল বলে অভিহিত করে
তাঁর দলের নেতারা আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করার শতভাগ আশাবাদী হয়েছেন। মওদুদ
আহমেদ প্রগলভ হয়ে বলেছেন এই সফরের ফলে আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
অধীনে নির্বাচন না করার পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে গেছে। মোট কথা খালেদা জিয়া এই
ভারত সফর তাঁর দলকে একপ্রকার উজ্জীবিত করছিল বলেই মনে হচ্ছিল গত ক’দিন।
দেশের শান্তিকামী ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ বিএনপির এই
সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিল। কারণ বিএনপির অহেতুক ভারত বিরোধীতা সুস্থ
কোন রাজনৈতিক আচরণ ছিল না। তাছাড়া দেশের একটি অন্যতম প্রধান দলের সাথে
প্রতিবেশী বিশেষ করে ভারতের মত একটি বৃহৎ দেশের সাথে সদ্ভাব থাকাই
বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে ভারতের নীতি পরিবর্তনের আভাসও পাওয়া গিয়েছিল।
প্রতিবেশী দেশের শুধুমাত্র একটি দলের সাথে সদ্ভাব বজায় না রেখে সব দলের
সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে ভারতের আচরণ দেখে। এই বিষয়টিও
মন্দ নয়। ভারত তার স্বার্থে সব দলের সাথেই সুসম্পর্ক রাখতে চায়।
কিন্তু গত মঙ্গলবার বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রাক্তন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপির
ভারতনীতির কোন পরিবর্তন হয় নি। খালেদা জিয়ার ভারত সফর নিয়ে জামায়াতের
উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তারা ভারতের সাথে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে
অনঢ় আছেন ইত্যাদি। তবে যে, ভারতে
গিয়ে খালেদা জিয়া অতীত ভুলে যাওয়ার কথা বলে পক্ষান্তরে অতীতে তাঁদের ভুল
স্বীকার করে এলেন এবং অন্যান্য অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেন তার কী হলো? বিএনপির মঙ্গলবারের বক্তব্যের সাথে তো গত কয়েকদিনের কথাবার্তা, বক্তৃতা
বিবৃতির মিল নেই। তার মানে বিএনপি এখনো জামাতকে ঘাটাতে বা চটাতে চাইছে না।
বা বিএনপি বুঝতে পেরেছে ভারত বিরোধীতাই তার রাজনীতির মূল শক্তি? তার মানে ভারত নিয়ে বিএনপি গত সাড়ে তিন দশক যা করেছে। বলেছে তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে? ক্ষমতায় গেলে উলফাকে অস্ত্র যোগাড়ের ব্যবস্থা করে দেবে খালেদার সরকার? বিষয়টি
গোলমেলে করে ফেলেছেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা ভারতে থাকতে একরকম বলেছেন এখন
দেশে এসে অন্যরকম বলছেন। মঙ্গলবারের এই ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার অন্যতম
সফরসঙ্গী শমসের মোবিন চৌধুরী উপস্থিত থাকলেও তাঁকে বেশি কিছু বলতে দেখা যায়
নি।
ভারতে খালেদা জিয়ার এই সফরকে কেন্দ্র করে
সরকারের ভেতরেও যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল তা গোপন থাকে নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দীপু মনি ও দলের সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয়
সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তাকে এক
কথায় রাজনীতি সুলভ বা বিজ্ঞজনোচিত বলা যাবে না। আশরাফ সাহেব বলেছেন, খালেদা
জিয়া ভারতে গিয়ে কার কার সাথে কী কী বলেছেন সবই তাঁদের জানা আছে প্রয়োজনে
তা প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার বলে একটি কথা আছে। বর্তমান নেতাদের
কথাবার্তা শুনে মনে হয় এসবের বুঝি দাফন হয়ে গেছে। আশরাফ সাহেব কি সত্যিই
আলোচনার বিষয়গুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারবেন? তা কি সম্ভব? প্রাইমারি
স্কুলের ছাত্রের মত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আওয়ামী লীগ তথা সরকার পক্ষ তাদের
দুর্বলতাই প্রকাশ করেছে। বোকারা জানে না কখন কথা বলতে হয় কখন চুপ থাকতে হয়।
গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশে একযোগে জামাত শিবির হাঙ্গামা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে
চলেছে। তারা উস্কানিমূলকভাবে পুলিশকে আক্রমণ করছে। সাধারণ মানুষের সম্পদ
নষ্ট করছে, যানবাহনের
ক্ষতি করছে। রাস্তায় রাস্তায় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া যতই পরিণতির দিকে যাবে এবং সরকারের মেয়াদ
যতই শেষের দিকে যাবে জামাত-শিবিরের
এমন কার্যকলাপ ততই বৃদ্ধি পাবে। আমার ধারণা ভবিষ্যতে তা আরো ব্যাপকভাবে
হতে পারে। কিন্তু মুশকিল হলো এই অপশক্তিকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করার মতো
সাংগঠনিক শক্তি, মনোবল, ঐক্য ও আনুগত্য ছাত্রলীগ যুবলীগের আছে বলে মনে হয় না।
ক্ষমতা অনেক মানবিক গুণাবলী নষ্ট করে হয়ত।
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
email: qbadal@yahoo.com


ভাই, ২০০১ এর নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া বলেছিল যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মসজিদে মসজিদে উলু ধ্বনি বাজবে, আমার একটা কাজে একটা তথ্য দরকার ছিল যে আনুমানিক কবে উনি এই কথাটা বলছিল, বি এন পি ও সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি নিয়া একটা থিসিসের কাজে একজনকে সাহায্য করতে চাই, ওয়েবে পত্রিকার আর্কাইভ ২০০১ সালের টা পাইনাই ওরা সরিয়ে রেখেছে। লাইব্রেরিতে গিয়ে খুজতে হবে, আপনি যদি একটু অনুমান করে মাসটা বলে দেন, অথবা আপনার পরিচিত কেউ থাকলে তার কাছ থেকে একটু সাহায্য করতেন তাহলে খুজতে সুবিধা হত।
উত্তরমুছুন