দৈনিক আজাদী উপসম্পাদকীয় কাল আজ কাল
৭ জুন বৃহস্পতিবার ২০১২ খ্রি. ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯ সাল ১৬ রজব ১৪৩৩ হিজরি
কামরুল হাসান বাদল
লেখক : কবি, সাংবাদিক, কলাম লেখক
ইমেইলঃ qbadal@yahoo.com
Qumrul Hassan Badal
৭ জুন বৃহস্পতিবার ২০১২ খ্রি. ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯ সাল ১৬ রজব ১৪৩৩ হিজরি
কামরুল হাসান বাদল
গত ৫ জুন ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এ দিবসকে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তন, তার প্রভাব ও সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক লেখালেখি, বক্তৃতা বিবৃতি, সেমিনার সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ দূষণের কারণে বাংলাদেশের জলবায়ু বা আবহাওয়ারও যে পরিবর্তন হয়েছে তা বেশ লক্ষ্যণীয়। ষড়ঋতু ও নাতিশীতোষ্ণ পরিমণ্ডলের বাংলাদেশের আবহাওয়া ক্রমেই চরমভাবাপন্ন হয়ে উরো মাঝে এক প্রকার অভব্যতা বিরাজ করছে। এটি মোটেই কাম্য নয়। তা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্যে ক্ষতিকারক তো বটে এবং তা একটি সভ্য জাতির আচরণ হিসেবেও পরিগণিত হতে পারে না। বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের কথিত একটি, বক্তব্যকে কেন্দ্র ঠছে। দশ দিনের শীত আর বিশ দিনের বৃষ্টি ছাড়া সারা বছরই কাটে প্রচণ্ড গরমের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থায়। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের সাথে আরেকটি বিপর্যয়ও বুঝি জাতির জীবনে নেমে এসেছে তা হচ্ছে প্রকৃতির মতো আজকাল মানুষের আচার ব্যবহারও এক প্রকার চরম ভাবাপন্ন হয়ে ওঠা। বর্তমান সময়ের মতো আগে কখনো মনে হয় বাঙালি এতটা অসহিষ্ণু ছিল না। দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় থেকে সংসদ, শিক্ষিত জ্ঞানী থেকে সাধারণ খেটে যাওয়া মানুষ, সবার মাঝেই এক প্রকার অস্থিরতা, অসহিষ্ণুতা এবং কারো কাকরে জাতীয় সংসদে তিনজন সংসদ সদস্য যে ভাষায় কথা বলেছেন তা নিয়ে সারাদেশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে স্বতন্ত্র সাংসদ ফজলুল আজিম অভিযোগ করেন টিআইবির এক অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের দেওয়া বক্তব্যে সংসদ ও সাংসদদের অবমাননা করা হয়েছে। এরপর সরকারি দলের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু অধ্যাপক আবু সায়ীদের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁকে সংসদে তলব করার জন্য সাংসদদের কাছ থেকে নোটিস আহবান করেন। ঐ সময়ে স্পিকারের আসনে থাকা প্যানেল স্পিকার আলী আশরাফ বলেন অধ্যাপক আবু সায়ীদকে সংসদে এসে ক্ষমা চাইতে হবে। ও দিন সংসদের এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ছিলেন না। তারপর গত সোমবার সংসদ ভবনের মনী হোস্টেলের আইপিডি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী বলেছেন, একটি পত্রিকা দেখে বিষয়টি ভালভাবে না জেনে তাঁর মতো (অধ্যাপক সায়ীদ) সম্মানিত ব্যক্তিকে নিয়ে বিরূপ সমালোচনা করা ঠিক হয়নি। তিনি আরও বলেছেন, আমি দেখেছি একটি মাত্র পত্রিকায় তাঁর বক্তব্য ছাপা হয়েছে। তাছাড়া উনি নিজেও বলেছেন সংসদ সদস্যদের অবমাননা করে তিনি কোন কথা বলেননি। সংসদতো এতো হালকা জায়গা নয় যে সবকিছুর প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে, তাছাড়া তাও আবার সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে। আমি সংসদে থাকলে এ আলোচনা হতে দিতাম না। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বিষয়টি এতদিনে জনমনে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, প্রকৃতই তিনি সেদিন তেমন কোন বক্তব্য দেননি। দেশের একটি পত্রিকা, যেটি এদেশে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সহযোগী, তেমন একটি পত্রিকার ইচ্ছাকৃত ভুলের জন্যে এত বিশাল একটি ঘটনা ঘটলো তাতে ঐ পত্রিকার লাভ হলেও ক্ষতি হলো বাংলাদেশের, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের। এ ঘটনার পরে সাংবাদিকদের আরও সতর্ক সংযত ও জবাবদিহিমূলক সংবাদ পরিবেশনের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে। এক সময়ের বিএনপি দলীয় সাংসদ, বর্তমানে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিমের কাছে না হয় ঐ পত্রিকার সংবাদ প্রণিধানযোগ্য হতে পারে, কিন্তু আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদদের কাছেও কীভাবে ঐ একটি মাত্র পত্রিকার রিপোর্ট এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো তা অনুধাবন করা কঠিন হয়ে উঠছে। ওদিন তিন সাংসদ যে ভাষায় কথা বলেছেন তা এক কথায় ভদ্রজনোচিত নয়। ইতিমধ্যে সংসদ বিবরণী থেকে এসব বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি উঠেছে। আমরা আশা করবো এ বিষয়ে সম্মানজনক একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবে সংসদ। তবে সেদিন তাঁদের সাংসদদের বক্তব্যের সাথে সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তাঁরা উত্থাপন করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন সংসদ সার্বভৌম, কেউ সংসদ বা সাংসদদের সমালোচনা করে কিছু বললে তা সংসদ অবমাননার শামিল হবে। টেলিভিশনে দেখলাম হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে অপসারণের জন্যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়ে- ২ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। অবশ্য তার আগে স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে দেয়া হাইকোর্টের একজন বিচারপতির বক্তব্যে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত কয়েক মাস থেকে বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় কিছু বিষয়ে উচ্চ আদালতের অতি সক্রিয়তা বা স্বপ্রণোদিত হয়ে ভূমিকা রাখা ও অন্যান্য কারণে জাতীয় সংসদের সাথে উচ্চ আদালতের দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। মঙ্গলবারের ঘটনায় মনে হচ্ছে প্রতিষ্ঠান দুটি এবার বুঝি মুখোমুখী দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। বিগত কিছুদিন থেকে চলে আসা এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জেগেছে আসলে সার্বভৌম কারা? জাতীয় সংসদ নাকি সর্বোচ্চ আদালত। কে কার অভিভাবক হিসেবে কাজ করবে? আসলে কি সংবিধানে সংসদ ও সংসদ সদস্যদের এমন ক্ষমতা বা স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে যে, কেউ তাদের কাজের সমালোচনা করতে পারবে না, করলে তা সংসদ অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে? চলুন দেখি সংবিধান কী বলে। সংবিধানের প্রস্তাবনা : “আমরা বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭১ খ্রীস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া (জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের) মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।”... “আমরা আরও অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে।” প্রথমভাগ, ৭ (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল ওই সাংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্ব কার্যকর হইবে। (২) জনগণের অভিপ্রায়ের চরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি ওই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয় তাহা হইলে সে আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হইবে।” এবার দেখুন সংসদ ও সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি নিয়ে সংবিধানে কী বলা আছে। ৭৮ (১) সংসদের কার্যধারার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। (২) সংসদের যে সদস্য বা কর্মচারীর উপর সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ, কার্যপরিচালনা বা শৃংখলা রক্ষার ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে তিনি সকল ক্ষমতা প্রয়োগ সম্পর্কিত কোন ব্যাপারে কোন আদালতের এখতিয়ারের অধিন হইবেন না। (৩) সংসদে বা সংসদের কোন কমিটিতে কিছু বলা বা ভোটদানের জন্য কোন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোন আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না। (৪) সংসদ কর্তৃক বা সংসদের কর্তৃত্বে কোন রিপোর্ট। কাগজপত্র ভোট বা কার্যধারা প্রকাশের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না। (৫) এই অনুচ্ছেদ সাপেক্ষে সংসদের আইন দ্বারা সংসদের, সংসদের কমিটি সমূহের এবং সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার নির্ধারণ করা যাইতে পারে।” প্রিয় পাঠক এর বাইরে আর কোন অনুচ্ছেদ দ্বারা এমন কথা হয়নি যে, সংসদ সদস্যদের নৈতিক স্খলন, অন্যায়, দুর্নীতি বা এমন বিষয়ে জনগণ কোন প্রশ্ন করতে পারবে না। উচ্চ আদালত যদি সংবিধানের অভিভাবক হয়। আর সে আদালতের বিচারপতিগণ যদি দলীয় সরকারের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং বিচারপতিদের অপসারণ করার অধিকার যদি সংসদ সংরক্ষণ করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তবে প্রশ্ন ওঠে প্রকৃতপক্ষে সার্বভৌম কে? আমরা সংবিধানের প্রস্তাবনায় দেখলাম বাংলাদেশের জনগণই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছে। ৭ (১) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে। অতএব খুব বেশি তর্কে না গিয়ে বলা যায় সংসদ বা উচ্চ আদালত নয় জনগণই সার্বভৌম ও সকল ক্ষমতার মালিক। অতএব রাষ্ট্রের যে কোন বিভাগ, (আইন, বিচার ও শাসন) ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন করার, জানার অধিকার জনগণের আছে। এবং তারপক্ষ হয়ে এ প্রশ্ন যে কেউ করার অধিকার রাখেন। অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলেছেন তিনি মন্ত্রী বা সাংসদদের নিয়ে কিছু বলেন নি। আমরা মনেকরি তিনি কিছু বললেও তাঁকে সংসদে ডেকে বা তলব করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করতে পারে না জাতীয় সংসদ। এমনকি আদালতের বিষয়েও জনগণ প্রশ্ন রাখার অধিকার রাখে। কারণ দেশের কোন বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানই আইন বা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। জনগণ যেহেতু সকল কিছুর মালিক অতএব সাদামাটা কথায় মালিকের অধিকার থাকে কোথায় কী ঘটছে তা জানার। দেখার ও অনিয়ম দেখলে বিচার করার। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় দেশে একটি আইন সভা থাকে সেখানে আইন প্রণয়নের জন্য জনগণ যাদের নির্বাচিত করে পাঠান তাঁদের বলা হয় আইন সভার সভ্য। বাংলাদেশে সে আইন সভার নাম জাতীয় সংসদ আর তার সভ্যদের বলা হয় জাতীয় সংসদ সদস্য। তাঁরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের নিকট দায়বদ্ধ। অতএব তাঁদের যে কোন ভাল বা খারাপ কাজের প্রশংসা কিংবা সমালোচনা বা নিন্দা জানানোর অধিকারও জনগণ সংরক্ষণ করেন। তাঁরা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে নন। কাজেই তাঁদের দুর্নীতিবাজ বললেই রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সংসদ অবমাননার অভিযোগ তোলা যুক্তি সংগত নয়। আমি খুশি হতাম যদি অধ্যাপক আবু সায়ীদ এর প্রতি এমন বিষোদগার না করে কোন একজন সাংসদ যদি দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বলতেন আমি অমুক, অধ্যাপক সায়ীদ সাহেবের বক্তব্যে আমার মানহানি হয়েছে। আমার সারাজীবনে আমি কোথায় এক টাকার অনিয়ম বা দুর্নীতি করেছি তা প্রমাণ করা হোক। ৩০০ জন সাংসদের মধ্যে এমন সাহসী কেউ নেই? ছিলেন না সেদিন? রাজনীতি করতে গেলে প্রশংসা স্তুতির সাথে নিন্দার দায়ও নিতে হয়। এমন উন্নাসিক আচরণ অন্তত জাতীয় সংসদ থেকে আশা করা যায় না। জয়নাল আবদিন ফারুক (যিনি এর প্রতিবাদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক আবু সায়ীদের নামটিও মনে করে বলতে পারছিলেন না) আর অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বলার ভাষা এক হতে পারে না। এই মাত্রাজ্ঞানটুকু আমাদের মাননীয় সাংসদদের নেই তা ভাবতেও কষ্ট হয়। এভাবে প্রতিদিন বিভিন্নভাবে বিভিন্নজনকে বিপক্ষে ঠেলে দিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যত কী অর্জন করতে চায় তা আমার মাথায় ঢুকছে না। (আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)।
লেখক : কবি, সাংবাদিক, কলাম লেখক
ইমেইলঃ qbadal@yahoo.com
Qumrul Hassan Badal
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মন্তব্য লিখুন