• কামরুল হাসান বাদল
হরতাল একটি গুজরাটি শব্দ। এর কাছাকাছি শব্দ ধর্মঘট, বন্ধ ইত্যাদি। মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। হরতাল হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সর্বাত্মক ও সম্মিলিত আন্দোলন। হরতালের সময় সকল কর্মক্ষেত্র, দোকান, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।
দুঃখিত আমি পাঠকদের হরতালের সংজ্ঞা দেওয়ার স্পর্ধা করেচি। কারণ হরতাল কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী তা বাংলাদেশের জনগণের চেয়ে বেশি বুঝি আর কেউ জানে না। ব্রিটিশ গেছে, পাকিস্তান গেছে এমনকি বাংলাদেশের স্বৈরতন্ত্রও গেছে কিন্তু হরতাল এ জাতির পিছু ছাড়েনি। যে হরতাল একটি সময় জনগণের প্রতিবাদের ভাষা ছিল, অস্ত্র ছিল সে হরতাল আজ জনগণের জন্য অভিশাপ হিসেবে আর্ভিূত হয়েছে। এ দেশের সিংহভাগ জনগণ হরতাল চায় না। কিন্তু তার পরও এখানে হরতাল হয়। জনগণ হরতাল পালন করে না, তারপরও হরতাল আহ্বানকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভবে হরতাল পালনের জন্য জনগণকে ধন্যবাদ দেয়। বিষয়টি কম্বল ছাড়তে চাইলেও কম্বল ছাড়ে না অবস্থা। হরতালের একটি অত্যাবশ্যকীয় কাজ পিকেটিং। একটু আগে বললাম জনগণ সাড়া দিক বা না দিক, জনগণ চায় বা না চায় এ দেশে জনগণকে হরতাল গিলতে হয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালনের জন্য সন্ধ্যায় যে জনগণকে ধন্যবাদ দেয়া হবে সেই জনগণকে হরতাল পালনে সশস্ত্র অবস্থায় বাধ্য করার নাম পিকেটিং।
তবে হরতাল বা পিকেটিংয়ের নামে সম্প্রতি সংঘটিত সহিংসতা অতীতে সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। একাত্তরের-মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও বিচারাধীন জামায়াত নেতাদের বিচার ঠেকানোর নামে জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ডকে কোনভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি বলার উপায় নেই। পুলিশের ওপর আক্রমণ ও নির্মম হত্যা, জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধন, সংখ্যালঘুদের ওপর একাত্তরের মতো নির্যাতন এবং অবাধে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা দেখে জনগণ মনে করে এসব কোন স্বাধীন দেশের নাগরিকের আচরণ হতে পারে না।
আমাদের ধারণা দেশের জনগণ আর হরতালের নামে নৈরাজ্য পছন্দ করছেন না। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সম্পূর্ণ অহিংস আন্দোলন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে প্রভাবিত করবে সন্দেহ নেই। হরতালের নামে জ্বালাও-পোড়াও সংস্কৃতিক থেকে দেশের জনগণ বেরিয়ে আসতে চায়। এই বাস্তবতা এখন দেশের সকল রাজনৈতিক দলকেই অনুধাবস করতে হবে। পরাধীন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে। কারণ দেশের লক্ষ লক্ষ নারী শ্রমিক আর লক্ষ লক্ষ প্রবাসী শ্রমিকের ঘামের বিনিময়ে তৈরি দেশের অর্থনৈতিক ভিত নষ্ট করার অধিকার জনঘন আর রাজনীতিবিদদের দেবে কি-না তা ভাবার সময় এসেছে। তাই বাস্তবতা যত দ্রুত অনুধাবন করবেন রাজনীতিবিদরা ততই দেশের মঙ্গল।
এই চ্যালেঞ্জটা রাজনীতিবিদরা নিতে পারেন। আগামীতে যে কোন দল হরতাল ডাকুক, আর রাজপথ থাকুক পিকেটিং মুক্ত। এরপরে দেখা যাক জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করে কি-না। এই চ্যালেঞ্জ রাজনীতিবিদরা নেবেন কি-না জানিনা। কিন্তু জনগণ ভাবছে স্বাধীনতার সুফল কবে তাদের সামনে দৃশ্যমান হবে, কবে রাজনীতিবিদদের হুঁশ আসবে, কবে তারা জ্বালাও পোড়াও বাদ দিয়ে জনগণের জন্য রাজননীতি করবেন? জনকল্যাণের রাজনীতি কতদূর?
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
email: qbadal@yahoo.com
হরতাল একটি গুজরাটি শব্দ। এর কাছাকাছি শব্দ ধর্মঘট, বন্ধ ইত্যাদি। মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। হরতাল হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সর্বাত্মক ও সম্মিলিত আন্দোলন। হরতালের সময় সকল কর্মক্ষেত্র, দোকান, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।
দুঃখিত আমি পাঠকদের হরতালের সংজ্ঞা দেওয়ার স্পর্ধা করেচি। কারণ হরতাল কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী তা বাংলাদেশের জনগণের চেয়ে বেশি বুঝি আর কেউ জানে না। ব্রিটিশ গেছে, পাকিস্তান গেছে এমনকি বাংলাদেশের স্বৈরতন্ত্রও গেছে কিন্তু হরতাল এ জাতির পিছু ছাড়েনি। যে হরতাল একটি সময় জনগণের প্রতিবাদের ভাষা ছিল, অস্ত্র ছিল সে হরতাল আজ জনগণের জন্য অভিশাপ হিসেবে আর্ভিূত হয়েছে। এ দেশের সিংহভাগ জনগণ হরতাল চায় না। কিন্তু তার পরও এখানে হরতাল হয়। জনগণ হরতাল পালন করে না, তারপরও হরতাল আহ্বানকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভবে হরতাল পালনের জন্য জনগণকে ধন্যবাদ দেয়। বিষয়টি কম্বল ছাড়তে চাইলেও কম্বল ছাড়ে না অবস্থা। হরতালের একটি অত্যাবশ্যকীয় কাজ পিকেটিং। একটু আগে বললাম জনগণ সাড়া দিক বা না দিক, জনগণ চায় বা না চায় এ দেশে জনগণকে হরতাল গিলতে হয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালনের জন্য সন্ধ্যায় যে জনগণকে ধন্যবাদ দেয়া হবে সেই জনগণকে হরতাল পালনে সশস্ত্র অবস্থায় বাধ্য করার নাম পিকেটিং।
তবে হরতাল বা পিকেটিংয়ের নামে সম্প্রতি সংঘটিত সহিংসতা অতীতে সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। একাত্তরের-মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও বিচারাধীন জামায়াত নেতাদের বিচার ঠেকানোর নামে জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ডকে কোনভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি বলার উপায় নেই। পুলিশের ওপর আক্রমণ ও নির্মম হত্যা, জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধন, সংখ্যালঘুদের ওপর একাত্তরের মতো নির্যাতন এবং অবাধে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা দেখে জনগণ মনে করে এসব কোন স্বাধীন দেশের নাগরিকের আচরণ হতে পারে না।
আমাদের ধারণা দেশের জনগণ আর হরতালের নামে নৈরাজ্য পছন্দ করছেন না। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সম্পূর্ণ অহিংস আন্দোলন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে প্রভাবিত করবে সন্দেহ নেই। হরতালের নামে জ্বালাও-পোড়াও সংস্কৃতিক থেকে দেশের জনগণ বেরিয়ে আসতে চায়। এই বাস্তবতা এখন দেশের সকল রাজনৈতিক দলকেই অনুধাবস করতে হবে। পরাধীন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে। কারণ দেশের লক্ষ লক্ষ নারী শ্রমিক আর লক্ষ লক্ষ প্রবাসী শ্রমিকের ঘামের বিনিময়ে তৈরি দেশের অর্থনৈতিক ভিত নষ্ট করার অধিকার জনঘন আর রাজনীতিবিদদের দেবে কি-না তা ভাবার সময় এসেছে। তাই বাস্তবতা যত দ্রুত অনুধাবন করবেন রাজনীতিবিদরা ততই দেশের মঙ্গল।
এই চ্যালেঞ্জটা রাজনীতিবিদরা নিতে পারেন। আগামীতে যে কোন দল হরতাল ডাকুক, আর রাজপথ থাকুক পিকেটিং মুক্ত। এরপরে দেখা যাক জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করে কি-না। এই চ্যালেঞ্জ রাজনীতিবিদরা নেবেন কি-না জানিনা। কিন্তু জনগণ ভাবছে স্বাধীনতার সুফল কবে তাদের সামনে দৃশ্যমান হবে, কবে রাজনীতিবিদদের হুঁশ আসবে, কবে তারা জ্বালাও পোড়াও বাদ দিয়ে জনগণের জন্য রাজননীতি করবেন? জনকল্যাণের রাজনীতি কতদূর?
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
email: qbadal@yahoo.com
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মন্তব্য লিখুন