দৈনিক আজাদী উপসম্পাদকীয় কাল আজ কাল
২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০১৪ খ্রি: ১৫ ফাল্গুন ১৪২০ সাল ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৫ হিজরি
- কামরুল হাসান বাদল
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক
email: qbadal@yahoo.com Google+
২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০১৪ খ্রি: ১৫ ফাল্গুন ১৪২০ সাল ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৫ হিজরি
- কামরুল হাসান বাদল
প্রিজনভ্যানে বোমা মেরে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে ৩ জঙ্গি ছিনতাইয়ের পর দেশজুড়ে আবার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকানো সম্ভব হয়েছে কি? বাংলা ভাই নেই কিন্তু জেএমবির কার্যক্রমতো বন্ধ হয়নি। প্রিজনভ্যান থেকে এভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা অতীতে ঘটেনি। এই আলোচনা ও উত্তেজনা শেষ হতে না হতেই গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রায় সব পত্রিকায় একটি সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে বিশ্বের ১০টি সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তালিকায় এবার উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নাম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক তথ্য ও মতামত প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে পরিচিত আইএইচএসের ‘আইএইচএস জেন্সস গ্লোবাল টেরোরিজম এন্ড ইনসারজেন্সি অ্যাটাক ইনডেক্স-এ বাংলাদেশের’ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নাম ৩ নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে। গত প্রায় দু’বছর ধরে আন্দোলনের নামে মূলত একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতের নেতাদের মুক্তি দাবি ও বিচারের বিরোধীতা করতে গিয়ে যে সহিংসতা ও নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে তাঁর ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে তারা। এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে।
গত শনিবার রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত ‘জঙ্গিবাদের হুমকি, বাংলাদেশের ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার আবদুর রশিদ দাবি করেছেন হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরীর, জামায়াতুল-মুজাহিদিনসহ বাংলাদেশে মোট ৪০টির মতো জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। ব্যারিস্টার রশিদ জঙ্গিবাদের কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরীর জামায়াতুল মুজাহিদিনসহ যে ৪০টি জঙ্গি সংগঠন আছে তাদের কারণে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ২২ হাজার ৭শ জনের মৃত্যু হয়েছে। হিন্দুদের ৩০০ মন্দির, ৫০০ বাড়ি ও ২০০ দোকান ভাঙচুর হয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দেশের মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে। জঙ্গিবাদ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাথে সাংঘর্ষিক। তথাকথিত জিহাদ, খিলাফত প্রতিষ্ঠার নামে ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ইত্যাদি দেশে জঙ্গিবাদ চলছে।’ বর্তমানে শুধু এই কয়টি দেশই নয়, প্রায় সবকটি মুসলিম প্রধান দেশে জঙ্গিবাদ মানব সভ্যতা, শান্তি ও প্রগতির জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। অনেকক্ষেত্রে অমুসলিম দেশগুলোও নিস্তার পাচ্ছে না আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী জঙ্গি সংগঠনগুলো থেকে।
মূলত বিশ্ব আজ দুটি অপশক্তির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। একদিকে পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি অন্যদিকে উগ্র ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আড়ালে ফ্যাসিবাদ। এই দুই অপশক্তির মাঝখানে পড়ে বিপন্ন হচ্ছে মানবতা। সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতার ভারসাম্যহীন বিশ্বে আজ একক পরাশক্তি হয়ে উঠতে চায়। এজন্যে বিশ্বের কিছু কিছু দেশে ঘাঁটি গড়ে তুলতে চায় আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোকে নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণের জন্য। বিশ্বের তাবৎ জ্বালানী তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যে তেল রফতানিকারক প্রায় সবদেশেই তারা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে আগেই। আমেরিকা তাঁর এসব অপকর্ম করার লক্ষ্যে যেসব দেশে তাঁর আগ্রাসন পরিচালনা করেছে তাঁর অধিকাংশই মুসলিম প্রধান দেশ। এসব দেশে আমেরিকার অন্যায় আচরণ ও কিছু কিছু দেশের শাসকশ্রেণির নতজানু ও তাঁবেদারি আচরণের প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের জনগণের মধ্যে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে আমেরিকা বিরোধী একটি মনোভাব জাগ্রত হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বে তেমন কোনো রাজনৈতিক বিরোধীতা গড়ে না ওঠায় তরুণদের এই ক্ষোভ ও বিদ্রোহকে পুঁজি করার সুযোগ পেয়েছে কিছু উগ্র ইসলামী চিন্তাবিদ। যারা পরবর্তীতে গড়ে তোলে বিভিন্ন সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী। ইরাকে অন্যায় যুদ্ধ ও সাদ্দামকে প্রহসনের বিচারে হত্যা, লাদেনের খোঁজে পাকিস্তান-আফগানিস্তানে আমেরিকার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় লিবিয়ার গাদ্দাফিকে উৎখাত ও প্রকাশ্য রাজপথে তাকে হত্যা করা এবং নির্লজ্জ ও অনৈতিকভাবে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে সমর্থনদান বিশ্বব্যাপী আমেরিকা বিরোধী একটি বিশাল জনগোষ্ঠী তৈরি হয় মুসলিমদের মধ্যে। যেহেতু সাম্যবাদী ও সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্র এখন নেই মার্কিন বিরোধী তেমন কোনো সংগঠনও নেই বিশ্বব্যাপী সেহেতু এই ক্ষোভের সমস্ত ফল তুলে নেয় ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠীরা। যদিও এই জঙ্গিগোষ্ঠীকে তৈরি করেছিল প্রথমে আমেরিকাই আফগানিস্তানে সোভিয়েত উপস্থিতি প্রতিহত করার লক্ষ্যে।
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে মূলত জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের পৃষ্ঠপোষকতায়। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যার পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠনকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। এর আগে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশে সব ধরনের ধর্মীয় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। জিয়ার আমল থেকে শুরু করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জামায়াত ও শিবির বাংলাদেশে দাপটের সাথে রাজনীতি করেছে। ছাত্র রাজনীতিতে রগ কাটা ও নৃশংস হত্যার সংস্কৃতি চালু করে ইসলামী ছাত্র শিবির। প্রথম প্রথম রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে তাদের স্লোগানও ছিল বেশ আকর্ষণীয় ও আবেগময়। গত শতকের ৭০ দশকের শেষে ও ৮০ দশক পর্যন্ত শিবিরের রাজনৈতিক আহবান ছিল এক ধরনের ইমোশনাল ব্লাকমেইলিং করার মতো। যেমন হাটহাজারী কলেজ মাঠের পূর্ব পাশের দেওয়ালে বর্তমানে উপজেলা পরিষদের পেছনের দেওয়াল। বড় বড় হরফে লেখা স্লোগানটির কথা আমার এখনো মনে পড়ে, ‘পুঁজিবাদ সেতো অভিশাপ, সমাজতন্ত্র সেতো আত্মার বন্দিশালা, হে মানুষ বাঁচতে চাও কি আল-কোরান তোমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে।’ তাদের এমন ডাকে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ আজ দিকভ্রান্ত মানবতাহীন অবিবেচক ও হন্তারক হয়ে উঠেছে। এই সংগঠন আজ বিশ্বের সশস্ত্র গোষ্ঠীর তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের জনগণ এই জঙ্গি গোষ্ঠীর রূপ ভালোভাবেই প্রত্যক্ষ করেছে গত ২০০১-২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ও সময়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চরম উত্থান ঘটে বাংলাদেশে। শুধু দেশে নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কয়েকটি প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে তৎকালীন সরকার ও দেশের জঙ্গিদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। উলফার মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের জন্য আনীত অস্ত্রের চালান ধরা পড়ে যাওয়ায় এ সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জেএমবির জঙ্গিদের দ্বারা আসামী ছিনতাই ঘটনার পর বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে আবার আলোচনা হচ্ছে। যদিও অন্তত গত দু’দশক ধরে দেশে জঙ্গি তৎপরতা অব্যাহতভাবে চলছে। তবে কখনো তা নীরবে (বর্তমান সরকারের শাসনকালে) কখনো সরবে (বিএনপি-জামাত) জোট শাসনকালে।
বাংলাদেশে উগ্র ইসলামী গোষ্ঠী ও জঙ্গিদের শ্রেণি আবার এক নয়। জামায়াতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামী দলের কর্মী সমর্থকরা সমাজের নিম্নস্তর থেকে শুরু করে উচ্চ স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। সমাজের সকল পেশায় এবং সরকার বা প্রশাসনের সব স্তরে জামায়াতের নেতা ও কর্মীরা সক্রিয়। তারা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে দলের জন্য কাজ করেন। এর মধ্যে দলকে সংগঠিত করা, দলের জন্য নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ ও নিজেদের বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ দলের তহবিলে প্রদান করাও এই শর্তে দলীয় লোকদের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের তথ্য ফাঁস করা ইত্যাদি কাজ করে থাকেন। এই গোষ্ঠীর আবার একেবারে সাধারণ সমর্থকও আছে যারা দলের একেবারে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে থাকেন। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায় ঘোষিত হওয়ার পর তাকে ‘চাঁদে দেখা গেছে এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব রটানোর ক্ষেত্রে এরা কাজ করে এবং সাধারণ সহজ-সরল মানুষকে ধর্মের কথা বলে। বেহেস্ত দোজখের কথা বলে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।
হিজবুত তাহরীরের মতো কিছু সংগঠন আছে। এই সংগঠনগুলো প্রচণ্ড আমেরিকা বিরোধী। এই ধরনের দলগুলোর নেতা ও কর্মীরা সমাজের বিত্তশালী ও উচ্চ শিক্ষিত পরিবারের সদস্য। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব দলের অন্যতম টার্গেট। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই এ ধরনের উগ্র ও জঙ্গিবাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেন। গণ-জাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের বিরুদ্ধে এ দলগুলো অত্যন্ত সক্রিয়। এদের সন্ত্রাস ও জঙ্গিরূপ অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও সুপরিকল্পিত। এ সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের শাখা। বাংলাদেশে এ দল নিষিদ্ধ। তবে উল্লেখ করার বিষয় যে, যে কারণে এবং যত তাড়াতাড়ি হিজবুত তাহরীরের মতো দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সে একই কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ হয়নি। তার কারণ হিজবুত তাহরীররা প্রচণ্ড মার্কিন বিরোধী আর জামায়াত-মার্কিন সমর্থক। মার্কিন সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি বলে বাংলাদেশে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়নি বলে অনেকের ধারণা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেই কি সব ল্যাটা চুকে বুকে যাবে? দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে? হিজবুত তাহরীর, জেএমবিসহ অনেক দলই তো নিষিদ্ধ, তাই বলে কি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে? জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে কি তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে? অতীতের অভিজ্ঞতা তা বলে না। নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে হয়ত প্রকাশ্যে মিটিং-মিছিল করা সম্ভব হবে না ওদের। সরকার অনেক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কিন্তু গোপন তৎপরতা রোধে কী-ই বা করতে পারবে।
ধর্মীয় জঙ্গিবাদ প্রতিহত করার একটি বিপদ হচ্ছে এরা ন্যক্কারজনকভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে। নিজেরা আক্রান্ত হলে ধর্মকে আক্রমণ করা হয়েছে কিংবা ইসলাম ধর্মের ওপর আঘাত বলে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও উত্তেজিত করে তুলতে পারে। ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যাকে হারাম এবং এই কাজ নিন্দিত করা হলেও এরা জিহাদের নামে আত্মঘাতি হামলা, বোমা হামলা করে থাকে, যা ইসলাম কখনো অনুমোদন করে না।
এরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে নিজেদের এবং দলের প্রচার-প্রপাগান্ডায় এদের মেধাকে কাজে লাগায়। এরা চিন্তা-চেতনায় অত্যন্ত পশ্চাদমুখী, রক্ষণশীল ও পাশ্চাত্য বিরোধী হলেও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (যার অধিকাংশই এদের ভাষায় ইহুদী-নাছারা তাদের সৃষ্টি) ব্যবহার করে পূর্ণ মাত্রায়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ওরা অত্যন্ত দক্ষ। এদের কয়েক হাজার দক্ষ প্রশিক্ষিত তরুণ আছে যাদের নিয়মিত বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের তৎপরতায় সক্রিয় থাকার জন্য। যে কারণে অন-লাইনভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে এদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বাঁশের কেল্লা ধরনের অনেক ‘সাইট’ আছে যার মাধ্যমে নিয়মিত তারা তাদের দলের পক্ষে প্রচার ও অপ্রচার করে থাকে।
সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংগঠনের অবস্থান বেশ ভালো এবং ধীরে ধীরে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রভাব বিস্তারে সক্ষমও হয়েছে। প্রিজনভ্যান থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবি নেতাদের ছিনতাই ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হলে বোঝা যেত সরকারি কোন কোন প্রতিষ্ঠান ও মহলের সাথে এ ধরনের জঙ্গি দলগুলোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে।
ক্ষমতায় যাওয়া আর সন্ত্রাস ও জঙ্গি নির্মূল করা সমার্থক নয়। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আছে ভেবে বসে তাকলে চলবে না। এর জন্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি প্রয়োজন। বলা বাহুল্য তা খুব স্বল্প মেয়াদী হলেও হবে না। কারণ দীর্ঘ বছর ধরে গেড়ে বসা এই শক্তিকে প্রতিহত করতে স্বল্প-মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে তা নিয়ে আগামী কিস্তিতে আলোচনার আশা রইল।
email: qbadal@yahoo.com Google+

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মন্তব্য লিখুন